ডেস্ক: প্রথমে উন্নাওতে বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের উপর ধর্ষণের অভিযোগ, এরপর কাঠুয়া গণধর্ষণ মামলায় অপরাধিদের সমর্থনে মিছিলে দুই বিজেপি নেতার অংশগ্রহণ। এই দুই ঘটনায় রীতিমতো নড়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন সফরে গিয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, ধর্ষণের মতো অপরাধ নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক না। কিন্তু আমাদের দেশে এমন বহু নেতা-মন্ত্রী রয়েছেন যাদের উপর মহিলা ঘটিত অপরাধের মামলা চলছে। যদিও তারাই উল্টে সাংসদ এবং মন্ত্রীর পদে বসে আমাদের জন্য আইন তৈরি করেন।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (ADR) শুক্রবার একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে এমন ৩ জন সাংসদ এবং ৪৫ জন বিধায়ক রয়েছেন যাদের উপর মহিলা সংঘটিত অপরাধের মামলা চলছে। দেশের ১৫৮০ জন সাংসদ এবং বিধায়ক এমন রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও মামলা চলেছে।

মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের খতিয়ান দেখলে সবার প্রথমে রয়েছেন মহারাষ্ট্রের বিধায়ক-সাংসদেরা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, তৃতীয় স্থানে অন্ধ্রপ্রদেশ। মহারাষ্ট্রে ১২, বাংলায় ১১ এবং অন্ধ্রে ৫ জন সাংসদ-বিধায়কদের উপর মহিলা ঘটিত অপরাধের মামলা চলছে। ADR-এর রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ৫ বছরের মহিলা ঘটিত অপরাধের মামলায় বড় রাজনৈতিক দলগুলি যেসব নেতাদের টিকিট দিয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে বিজেপি। গত পাঁচ বছরে বিজেপি এমন ৪৭ জন প্রার্থীকে টিকিট দিয়ে লোকসভা এবং বিধানসভায় পাঠানোর চেষ্টা করেছে, যাদের বিরুদ্ধে মহিলা ঘটিত অপরাধ দায়ের রয়েছে থানায়।

মহিলা ঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের টিকিট দেওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি। উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এরম ৩৫ জনকে নির্বাচনের টিকিট দিয়েছেন। তৃতীয় স্থানেই রাহুল গান্ধির দল কংগ্রেস। বিজেপি বিরোধী অন্যতম প্রধান এই শক্তি একই ধরণের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ২৪ জনকে নির্বাচনে লড়ার টিকিট দিয়েছে। তবে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে সেই বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদদের দিকেই। পদ্ম শিবিরে এখনও পর্যন্ত এরম ১২ জন সাংসদ বিধায়ক বর্তমান যাদের উপর মহিলা সংঘটিত অপরাধের মামলা চলছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here