bengali news

 

মহানগর ডেস্ক: রাজ্যে যে তিনদফায় ৯১টা আসনে ভোট হয়েছে, তাতে মেরেকেটে ২৫ থেকে ৩০টা আসন পেতে পারে বিজেপি৷ আজ বুধবার যাদবপুরে তৃণমূলের নির্বাচনী জনসভায় এমনই দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, গুজরাটের নেতা নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহ প্রতিদিন রাজ্যে আসছেন, আর হিসেব দিচ্ছেন তারা নাকি তিনদফায় ৬০ থেকে ৬৮টা আসন পাবে৷ মিথ্যা বলা ছাড়া এদের আর কোনও কাজ নেই৷ অতীত রেকর্ড তুলে ধরে মমতা বলেন, ২০১৮ সালে ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচনে এই নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ জুটি বলেছিল ১০০টার মতো আসনে জিতবে৷ কিন্তু মাত্র ১৫টায় জিতেছে৷ ওই রাজ্যে কংগ্রেস জিতে সরকার গড়েছে৷ ঝাড়খন্ডে বলেছিল ৫০-এরও বেশি আসনে জিতবে৷ কিন্তু পেয়েছে ৮১-র মধ্যে মাত্র ১৭৷ ওখানে সরকার গড়েছে জেএমএম শিবু সোরেনের ছেলে হেমন্ত সোরেন৷ ২০১৯ সালে বলেছিল মহারাষ্ট্রে তারাই জিতছে৷ বলেছিল দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতবে, কিন্তু পেয়েছে এক-তৃতীয়াংশ আসন৷ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকার গোহারা হয়েছে৷ মহারাষ্ট্রে সরকার গড়েছে শিবসেনা-কংগ্রেস জোট৷  দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় বলেছিল ৭০টা পাবে, পেয়েছে মাত্র ৮টা৷ সুতরাং এখানেও তারা তিনদফায় খুব বেশি হলে ২৫-৩০টা আসন পাবে৷

মমতা এদিন আরও বলেন, জঙ্গলমহলে ২০১৯ লোকসভায় আমরা হেরেছিলাম৷ এবার আমরা অনেকটা রিকভার করে নিয়েছি৷ সেবার মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিজেপি কিছু বেশি ভোট পেয়েছিল৷ কিন্তু ২০১৯ লোকসভা ভোটের পরেই আমরা জোরকদমে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়ি৷ উন্নয়নে একের পর এক কাজ করতে শুরু করি৷ মানুষের যেসব দাবি-দাওয়া ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই গত দেড় বছরে করে দিয়েছি৷ তাই এবার আমরা জঙ্গলমহলে অনেক ভাল ফলাফল করব বলে আশাবাদী৷

মমতা এদিন আরও বলেন, লোকসভার সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের অনেক ফারাক৷ ওই ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হয়, আর বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকার গঠন হয়৷ বাংলার মানুষ জানে গত ১০ বছরে মা মাটি মানুষের সরকার কী কী করেছে৷ মোদি-শাহ এই বাংলার জন্য কিছুই করেনি৷ বরং ওরা রাজ্যের কোটি কোটি টাকা বকেয়া আটকে রেখে উন্নয়নের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে৷ মমতার কথায়, দিল্লি, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডেও একইভাবে বলেছিল, ওরা একশো শতাংশ নিশ্চিত জিতছে৷ বাস্তবে দেখা গেল কোথাও জিততে পারেনি৷ কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরীষ্ঠ না হয়েও কীভাবে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমএলএ কেনাবেচা করে সরকার গড়েছে, তা গোটা দেশ জানে৷ এবার এখানে এসেও একইভাবে মিথ্যাচারিতা করছে৷ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন৷ ২ মে-র পর যদি ওদের কথা না মেলে তাহলে তো আর জেল-ফাঁসি হবে না, তাই চামড়ার মুখে যা খুশি বলে চলেছে বলে মন্তব্য করেন মমতা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here