FotoJet-23

ডেস্ক: কবি সুকান্ত বলে গিয়েছেন, ‘এ পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।’ বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ কথা কোথাও গিয়ে শুধুই কবিতার দুটি পংক্তি হয়ে রয়ে গিয়েছে। হিংসা, হানাহানি, রক্তপাত, লোভ, লালসাই যেখানে শ্যামলিমায় ভরা বসুন্ধরার আজ সমার্থক, সেখানে প্রাণপণে পৃথিবীর জঞ্জাল সরানোর চিন্তা করার মতো মানুষ পাওয়া সোনার পাথরবাটিরই সমান। তবে সম্পূর্ণ পৃথিবী থেকে না হলেও, নিজেদের জনসভা শেষে ব্রিগেডের মাঠ থেকে বেশিরভাগ জঞ্জালই সাফ করলেন বিজেপি কর্মীরাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর বিষয়টি মাথায় রেখে বুধবার চলল ‘স্বচ্ছ ব্রিগেড অভিযান।’

এদিন নরেন্দ্র মোদীর জনসভার পর মাঠে পড়ে থাকা জঞ্জাল সাফাই করতে কোমর বেঁধে নামেন দলীয় কর্মীরাই। ঝাঁ চকচকে না হলেও তাঁরা যে এই কাজে বেশ সফল তা সাফাইয়ের পর মাঠ দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

বুধবার কলকাতা ময়দানে আনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গ থেকে এই জনসভায় যোগদান করেছিলেন বহু বিজেপি সমর্থক। প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী দলগুলির প্রতি ঝাঁঝালো বক্তব্য শুনতে শুনতে শ্রোতারা যে চালভাজা, চিড়েভাজার মতো নানারকম খাবার দিয়ে পেটপুজো করেছেন, তা জনসভা শেষে ব্রিগেড দেখলেই বোঝা যাচ্ছিল। ইতিউতি পড়েছিল কাগজের চায়ের কাপ, প্লাস্টিকের গ্লাস, কাগজের প্লেট, ঠোঙা। শ্রোতারা তো পেটপুরে খেয়েদেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘরে ফিরে গেলেন। কিন্তু মাঠ আগের মতো স্বচ্ছ করার দায়িত্ব গিয়ে পড়ল দলীয় কর্মীদের ওপর। কর্মীরা তা করলেনও হাসিমুখে। পরিবেশ দূষণে রাজধানীকে ছাপিয়ে গিয়েছে কল্লোলিনী কলকাতা। সেখানে জনসভা শেষে এইসব জঞ্জাল যদি মাঠেই পড়ে থাকত তবে তা নিঃসন্দেহে পরিবেশ পরিপন্থি হত।

প্রসঙ্গত, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ যতই বিজেপি সুপ্রিমোর ‘একচেটিয়া অধিকার’-এর মধ্যে থাকুক না কেন, সভা শেষে সভাস্থল সাফাইয়ের সঙ্গে পরিচিত কিন্তু করিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর ‘বাংলার স্পিডব্রেকার’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলই। বাংলা থেকে বিজেপি কটা আসন পাবে বা আদৌ পাবে কিনা, তা সময় বলবে। তবে জনসভার পর ময়দানকে যথাসম্ভব পরিষ্কার করার এই চেষ্টাকে সাধুবাদ জানানোই যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here