jambi

শ্যামলেশ ঘোষ: এটা মোটেও লালগ্রহ মঙ্গলের ছবি নয়। অমঙ্গলের এই ছবি ইন্দোনেশিয়ার মধ্য সুমাত্রার জাম্বি প্রদেশের। গোটা আকাশটা ঢেকে গিয়েছে রক্তলাল-মেঘে। বিপুল বনাগ্নির ঘন ধোঁয়ায় সূর্যের আলো এসে পৌঁছচ্ছে না। তাই বেলা বারোটাতেই সেখানে ‘রাতের’ আবহ। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড প্রভৃতি ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী দেশও সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপের অপ্রতিরোধ্য দাবানলের ফলে উৎপন্ন বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে ভুগছে। ভয়াবহ এই ধোঁয়াশার ছবি দেখে মনে হবে কোনও ভৌতিক সিনেমা দেখছেন।

গতসপ্তাহের শেষদিকে সুমাত্রার জাম্বিতে দেখা গিয়েছে কমলা ও রক্তবর্ণের আকাশের ছবি। সেই ছবি ও ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যা প্রমাণ করছে, উৎসস্থলের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দারা কতটা তীব্র কষ্ট ভোগ করছেন। ইন্দোনেশিয়ার মেটিরিওলজি ক্লাইমেটোলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্স এজেন্সির (বিএমকেজি) কাছে এ সংক্রান্ত বিশদ তথ্য ও ব্যাখ্যা রয়েছে। বিএমকেজির মুখপাত্র সিস্বান্ত বলেছেন, রক্তিম আকাশ দেখা যাচ্ছে মুয়ারো জাম্বি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। ২১ সেপ্টেম্বর হিমাওয়ারি-৮ উপগ্রহচিত্র থেকে মিলেছে ওই এলাকায় তীব্র উত্তাপ ও অত্যন্ত ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ার চেহারা।

ইন্দোনেশিয়া সরকার বনাগ্নিপ্রবণ অঞ্চলে অতিরিক্ত ৫৬০০ জন আধিকারিক মোতায়েন করেছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪ হাজার কর্তাব্যক্তি রয়েছেন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের নতুন উপায়ের সন্ধান করছেন। তারা কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টির তাগিদে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, ইউরিয়া এবং লবণ মিশ্রিত একটি রাসায়নিক এবং ইউরিয়ার সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মিশিয়ে তৈরি রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যাতে এই সব অঞ্চলকে বীজবপনের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়। পাশাপাশি উত্তপ্ত এলাকাগুলি চিহ্নিত করতে করছেন ড্রোনের ব্যবহার। জঙ্গলে আগুন লাগানোর দায়ে ২৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে কমপক্ষে ৪৯টি সংস্থার জমি সিল করে দিয়েছে।

কবি বিনয় মজুমদার লিখেছিলেন, ‘বাতাসের নীলাভতা-হেতু দিনে আকাশকে নীল মনে হয়।’ রাতের আকাশ নিকষ কালো। আকাশ রক্তিম হবে কখন? সাধারণত, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়। এসময় সূর্য দিগন্তরেখার কাছে অবস্থান করে বলে সূর্যরশ্মি পুরু বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে আসে। তখন নীল আলো বিক্ষেপিত হয়ে নানা দিকে চলে যায়। কিন্তু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তা বিক্ষেপিত হয় কম এবং পৃথিবীতে আসে। তাই আকাশ লাল দেখায়। কিন্তু জাম্বির আকাশ রক্তবর্ণ হয়েছে ভয়ঙ্কর বনাগ্নির ফলে। তা কি কোনও অশনিসংকেত পাঠাচ্ছে বিশ্বকে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here