kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁকুড়া: আর মাত্র কয়েকটা দিন তারপরেই ঢাকে কাঠি পড়বে। বঙ্গবাসী মেতে উঠবে দেবী দুর্গার আরাধনায়। আর পুজোতে আবশ্যিক হল ফুল। বিকোয় দেদার। দাম হয় তুলনামূলক ভাবে বেশি। মন ভাল থাকার কথা তবু নেই। নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেশ কিছু দিন ধরে বৃষ্টি। বাদ যায়নি বাঁকুড়া জেলাও। মাথায় হাত বাঁকুড়া সোনামুখী থানার রাধামোহনপুর পঞ্চায়েতের অমৃতপাড়া, রামচন্দ্রপুর, মুনুই সহ প্রায় ছটি গ্রামের ফুলচাষীদের।

গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ফুল চাষিদের মাথায় পড়েছে হাত। কেননা বৃষ্টির জেরে গাছের ফুল গাছেই নষ্ট হয়ে ঝরে পড়ছে। যে সমস্ত নতুন কুঁড়ি বের হচ্ছে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিঘার পর বিঘা ফুল নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে এভাবেই মাঠে নষ্ট হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বাঁকুড়ার এই এলাকার ফুল চাষিদের। আর তাই কপালে চিন্তার ভাঁজ দিনদিন বাড়ছে। বাঁকুড়া সোনামুখী এলাকার অর্থনৈতিক বাজার এই ফুল চাষের ওপরই অনেকটা নির্ভরশীল। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ফুল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফুল চাষের ওপর নির্ভর করে চলে তাঁদের পুজোর বাজার, কেনাকাটা। সামনেই দুর্গাপূজা। বাঁকুড়া শহর তথা গ্রামেগঞ্জে দুর্গাপূজার সেই ব্যাপক পরিমাণ ফুলের চাহিদা মেটায় এই এলাকার চাষিদের ফুলই। অনেকেই বিভিন্ন পূজা কমিটির কাছ থেকে ফুলের বরাত নিয়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে ফেলেছেন। আর পুজোর ঠিক আগেই নিম্নচাপের বৃষ্টি একেবারে তীরে এসে তরী ডোবার মত। তার ওপর এখনের আবহাওয়ায় ফুল বিক্রির জন্য মালা গাঁথলেও সেই মালা আর বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না। মালা থেকে খসে পড়ছে ফুল। অগত্যা ফেলে দিতে হচ্ছে ফুল আর না হলে তা পচে নষ্ট হচ্ছে।

ফুলচাষিদের বক্তব্য, অনেক আশা নিয়ে ফুল চাষ শুরু হয়েছিল। সামনে দুর্গা পুজো তাই ফুল বিক্রি করে ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কাপড় কেনার কথা ভেবেছিলেন। এবার সেই ইচ্ছে সম্ভব হবে না এই আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছেন ফুলচাষিরা। কবে নাগাদ নিম্নচাপের বৃষ্টি কমে সেই আশাতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে ফুল ফোটানোর কারিগররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here