kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা: নিখোঁজ কলেজ ছাত্রীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা মালদার রতুয়ায়। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি তুলে রাস্তা অবরোধ মৃতের পরিবার এবং গ্রামবাসীদের। ঘটনায় সিআইডি তদন্তের দাবি তোলা হয়। উল্লেখ্য, পাঁচদিন ধরে নিঁখোজ থাকা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয় শুক্রবার রাতে। কলেজের কাছেই একটি ধানখেতে মেলে দেহ। অপহরণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের। গ্রেফতার করা হয় ওই ছাত্রীর হবু স্বামীকে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় মালদার রতুয়ায়।

সামসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীর নাম মর্জিনা খাতুন (২২)। গত ১৪ অক্টোবর থেকে নিঁখোজ ছিলেন ওই ছাত্রী। পরিবারের তরফে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। রতুয়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমে মর্জিনার হবু স্বামী সেনাবাহিনীতে কর্মরত স্থানীয় যুবক বাপি সেখকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রতুয়ার বাহারালের উত্তর সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনসুর সেখের মেয়ে সামসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মর্জিনা খাতুনের বিয়ে ঠিক হয় রুকুন্দিপুর গ্রামের বাপি সেখের সঙ্গে। সে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বলে জানা গেছে। বিয়ের সামাজিক প্রথা মেনে ‘দেনমোহর’ও হয়ে যায়। বিয়ের বাকি অনুষ্ঠান মর্জিনার পড়াশোনা শেষ করার পরেই হওয়ার কথা ছিল দুই পরিবারের মধ্যে। মর্জিনার পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর বাপি সেখ মর্জিনাকে সামসিতে কলেজের কাছে দেখা করার জন্যে ডাকে। যেহেতু তাদের মধ্যে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, তাই মর্জিনার বাবা-মা বাধা দেননি। মর্জিনা দুপুরের আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু সন্ধের পরেও ফিরে না এলে শুরু হয় খোঁজ। ফোন করা হয় বাপিকে। কিন্তু বাপি জানায়, সেদিন নাকি মর্জিনা তার সঙ্গে দেখাই করেননি। এরপরেও মর্জিনা ফিরে না এলে রাতেই রতুয়া থানায় অভিযোগ জানায় পরিবার। পুলিশ তৎপর হয়ে তদন্তে নামে। পরে গ্রেফতার করা হয় বাপিকে। ১০দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় বাপিকে। কিন্তু খোঁজ মেলে না মর্জিনার।

অবশেষে শুক্রবার রাতে তাঁর পচাগলা দেহ মেলে সামসি কলেজ যাওয়ার রাস্তায় একটি ধানখেত থেকে। শনিবার সকালে ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি তুলে সরব হন ছাত্রীর পরিবার এবং গ্রামবাসীরা। পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দফায় দফায় বিক্ষোভে প্রায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রতুয়ার বাহারাল। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট এবং বোমা ছোড়া হয়। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ।

ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী এবং পুলিশকর্মী আহত হন। পরে জেলা সদর থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে‌ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here