নিজস্ব প্রতিবেদক, বনগাঁ: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছিল নাবালিকা প্রেমিকার বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার পালা। দুইয়ের চাপে আর নিজেকে ঠিক আর ঠিক রাখতে পারল না উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার চাঁদা রায়পুর এলাকার বাসিন্দা তথা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সন্তু রায়(১৭)। রবিবার সকালে বনগাঁ চাঁদা লোহিত মোহন উচ্চবিদ্যালয়ের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে তার বাড়িতেই ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে সন্তুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এলাকারই কিশোরী তথা একাদশ শ্রেনীর পড়ুয়া সাথী মণ্ডলের। অভিযোগ, গত কয়েকমাস ধরেই সাথী সন্তুর ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল তাকে বিয়ে করার জন্য। সন্তু বাড়িতে সেটা জানিয়েওছিল। কিন্তু তার বাড়ি থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় তাদের দুজনেরই বিয়ের বয়স হয়নি। সন্তুর ১৭ আর সাথীর ১৬। তাই বিয়ের চিন্তাভাবনা ছেড়ে সন্তুকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য পড়ায় মন দিতে বলে দেওয়া হয়।

যদিও সেই প্রস্তাব সন্তু মেনে নিলেও মানতে পারেনি সাথী। সে ক্রমাগত বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে যেতে থাকে। এদিকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় সন্তুকে পরীক্ষাও দিতে হচ্ছিল। তার বন্ধুর মারফত জানা গিয়েছে গত সপ্তাহে তার পরীক্ষা ভাল না হওয়ায় সে কিছুটা মন মরা ছিল। এদিন সকালে সন্তুকে তাদের বাড়িতে পাখার সঙ্গে গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে বনগাঁ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্তুর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার জেরে বনগাঁ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here