অর্ধেক ফুসফুস পুড়ে ছাই পৃথিবীর, ঘুম ভাঙছে না ব্রাজিলের! আগুন নেভাতে সক্রিয় বলিভিয়া

0
88
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: জ্বলছে আমাজন, জ্বলছে পৃথিবী, জ্বলছে…

এমনই শ্লোগান উঠেছিল সারা বিশ্বজুড়ে। কিন্তু সেই শব্দ পৌঁছছিল না ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর কানে। গত ১৫ আগষ্ট থেকে জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস অর্থাৎ অম্যাজন। বৈজ্ঞানিক হিসাবে পৃথিবীর প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ২০ শতাংশই আসে এই অরণ্য থেকে। দাবানলের জেরে জ্বলে উঠেছে এই অরণ্য। ইতিমধ্যেই সে বিষয়ে নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে। কিন্তু নিজ দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বহিরাগতদের নাক গলানকে পছন্দ করছিলেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ বলসোনারো। জঙ্গলের আর্তনাদও তাঁর কানে আসেনি।

তবে দীর্ঘ ৯ দিন পর নড়েচড়ে বসলেন তিনি। ব্রাজিল সরকারের তরফে ঘোষণা করা হল, অ্যামাজনের আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী পাঠাবে ব্রাজিল সরকার। যদিও এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। সরকারি তরফে এখনও অবধি জানানো হয়নি ঠিক কবে থেকে সেনা পাঠানোর কাজ শুরু হবে। কিংবা কী কী প্রক্রিয়া অবলম্বন করে আগুন আয়ত্তে আনা হবে। ইতিপূর্বেই বলসোনারো তরফে জানান হয়েছিল ব্রাজিলের অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই অরণ্য।

পরিবেশবিদদের একাংশের দাবি, সরকারি চক্রান্তের শিকার এই অরণ্য। অরণ্যের জমিকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার লক্ষে এই এমন তীব্র আগুনের শিকার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অরণ্য। অন্যদিকে বলিভিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাদের দেশের তরফে একটি বিমান পাঠান হয়েছে। আগুন কবলিত স্থানগুলিকে চিহ্নিত করে এসে ফের উড়ে যাবে জল নিয়ে বোয়িং ট্যাঙ্কার বিমান। শুক্রবার থেকেই এই অভিযানে নেমে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম এই দেশটি। অগ্নিকাণ্ডের এতদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না ব্রাজিল সরকার এই মর্মে বিশ্বের নানা দেশের ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বিশ্ববাসী। লন্ডন,প্যারিস,জেনিভায় এই বিক্ষোভের আঁচ প্রকটতর হয়ে ওঠে।

তবে ব্রাজিলের আমাজন অরণ্যের এই আগুন এই প্রথম নয়। সেদেশের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ এক রিপোর্টে জানিয়েছে, শুধু মাত্র ২০১৯ সালেই এখনও পর্যন্ত ৭৪,৮৪৩ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে আমাজনে। গত বার এই সংখ্যাটা ছিল মোটামুটি ৪০,০০০। অর্থাৎ এবার দাবানলের ঘটনা প্রায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। ইতিমধ্যেই পুড়ে গেছে সেখানকার সাত হাজার ৭৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। মিনিটে পুড়ছে ১০ হাজার বর্গমিটার এলাকা। আমাজনের এই দাবানল প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চললেও শেষ কয়েকদিন ধরে বাকি পৃথিবীর মানুষ এই সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এমন গুরুতর বিষয় নিয়ে সরকারের কোনও হেলদোল না থাকায় গোটা বিশ্বের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ব্রাজিলের সরকারকে।

এবার ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী টুইটারে জানিয়েছেন, এই দাবানলের জন্য দায়ী নাকি প্রকৃতি অর্থাৎ বৃষ্টির অভাব, উষ্ণতা, হাওয়া বা বজ্রপাত। কিন্তু রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, এ বছর আমাজনের আবহাওয়া মোটের ওপর স্বাভাবিকই রয়েছে। অন্যদিকে, আমাজনের অরণ্য নিয়ে কাজ করা একাধিক এনজিও কিন্তু এই আগুনের পেছনে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষদেরই দায়ী করছেন। অর্থাৎ প্রাকৃতিক কারণে নয়, মানুষের নির্বুদ্ধিতা এবং পশুচারণের জন্য জমি খালি করার স্বার্থকে অ্যামাজনের এই ভয়াবহ আগুনের জন্য দায়ী করেছেন। যদিও এখনও অবধি কোনও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি সরকার। স্পষ্টভাবে জানা যায়নি ঠিক কীভাবে কত সময়ের মধ্যে এই আগুন আয়ত্তে আনা সম্ভব।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here