মহানগর ওয়েবডেস্ক: লাদাখে আগ্রাসী ভূমিকা দেখাতে গিয়ে ৫৯টি অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা সহ ভারতে একাধিক চুক্তি হাতছাড়া হয়েছে, বাণিজ্য যুদ্ধ ও করোনাভাইরাসের কারণে আমেরিকাতেও নানারকম আর্থিক প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে। এবার প্রতিশ্রুতি ভেঙে হংকংকে দ্বিতীয় তিব্বত বানাতে গিয়ে ব্রিটেনে হুয়েই কোম্পানির ৫জি চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাওযার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

ব্রিটেনের হাত থেকে দায়িত্ব নেওয়ার ২৩তম বর্ষে পদার্পণের দিন থেকেই হংকং–এ নতুন নিরাপত্তা আইন জারি করার কথা ঘোষণা করে চিন। এই আইনের ফলে হংকং–এর স্বাধীনতা নিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করলে বা স্বাধীনতার ইঙ্গিতবাহী কোনও বস্তু বহন করলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। এই আইনের প্রতিবাদে হংকং–এর নাগরিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ  করতে বেজিং পরিচালিত পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং প্রতিবাদে সামিল হওয়া বহু মানুষকে গ্রেফতার করে।

চিনের এই নতুন নিরাপত্তা আইনটিকে মাত্রাতিরিক্ত কঠোর আখ্যা দিয়ে আইনটি চুক্তিভঙ্গকারী ও ”অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গতকালই ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে হংকং–এর ৩০ লক্ষ মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। তার প্রতিক্রিয়ায় চিনের বিদেশমন্ত্রী ঝাও লিজিয়ান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ব্রিটেনকে এর পরিণতি ভুগতে হবে। হংকং সম্পূর্ণ ভাবে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয় ফলে অন্য কোনও দেশের এই ব্যাপারে নাক গলানোর অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন ঝাও লিজিয়ান।

চিনের বিদেশমন্ত্রীর হুমকিতে যে বিশেষ কোনও কাজ হয়নি তার প্রমাণ দিতেই সম্ভবত অস্ট্রেলিয়া জানিয়ে দেয় ব্রিটেনের মতো হংকং–এর বেশ কিছু সংখ্যক মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া যায় কিনা সেটা তারা ভেবে দেখছে। তাইওয়ান ইতিমধ্যেই হংকং–এর বিক্ষুব্ধদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য অফিস খুলে ফেলেছে। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের থেকে হংকং অধিগ্রহণ করার সময় চিনের পক্ষ থেকে হংকং–এর অধিবাসীদের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার রাশ আরও শক্ত করার জন্য চিন নতুন নিরাপত্তা আইন আনায় পশ্চিম দুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

চিনের অগণতান্ত্রিক আচরণের এই খোলামেলা প্রদর্শনে ও ব্রিটেনকে হুমকি দেওয়ায় গত জানুয়ারি মাসে হুয়েই’র সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বাতিল করার চাপ তৈরি হয়। বরিস জনসন ‘ইভনিং স্ট্যানডার্ড’ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিরুদ্ধ মনোভাবাপন্ন কোনও দেশের কোম্পানির হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পের পরিকাঠামো ছেড়ে দেওয়ার কোনও ইচ্ছে ওনার নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করেই চিন্তাভাবনা করতে হবে।

৫জি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চিনের হুবেই’র হাতে অত্যন্ত সীমিত ক্ষমতা দেওয়ার জন্য দেশের অভ্যন্তরেই প্রবল চাপ তৈরি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ওপর। এই পরিকাঠামো চিন ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কারণে ব্যবহার করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই সীমিত ক্ষমতা দেওয়ার কথা উঠেছিল। হংকং–এর ঘটনার পর প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায় ব্রিটেনের মাটিতেও একটি বিশাল অঙ্কের ব্যবসা হাতছাড়া হতে চলেছে চিনের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here