ডেস্ক: একেবারে শিয়রে ঝুলছে লোকসভা নির্বাচন। কিন্তু তার আগেই গেরুয়া শিবির অস্বস্তিতে পড়ল। সম্প্রতি সর্বভারতীয় ম্যাগাজিন সংস্থা ‘ক্যারাভান’ একটি রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, ২০০৯ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বদের প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন।

ইয়েদুরাপ্পার নিজের হাতে লেখা একটি ডায়েরি নিজেদের ম্যাগাজিনে ছেপেছে ‘ক্যারাভান’। আয়কর দফতরের কাছেও নাকি এই নথি রয়েছকে বলে জানা গিয়েছে। কর্নাটক বিধানসভার বিধায়কদের বুঝতে সুবিধার জন্য এই ডায়েরিটি কন্নড় ভাষায় লেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির কোন কোন শীর্ষ নেতৃত্বদের এই কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল সেই সময়ে সেই কথাও স্পষ্ট লেখা রয়েছে এই ডায়রিতে। তবে শুধু বিজেপি নেতাদের নয় এই টাকা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন বিচারপতি এবং আইনজীবীদের। জানা গিয়েছে, অরুণ জেটলি এবং নীতীন গড়করিকে ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। রাজনাথ সিংকে ১০০ কোটি এবং লালকৃষ্ণ আডবানী ও মুরলী মনোহর যোশীকে ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তিব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এছাড়া সেইসময়ে গড়করির ছেলের বিয়েতে প্রায় ১০ কোটি টাকাও দেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, বিচারপতিদের ২৫০ কোটি এবং আইনজীবীদের ৫০ কোটি করে টাকা দেন।

 

ফাঁস হওয়া এই রিপোর্টের পরেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে আবারও একবার ময়দানে নেমেছে কংগ্রেস শিবির। সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা জানতে চেয়েছেন যে এই রিপোর্ট সত্যি না মিথ্যে? ২০১৭ সাল থেকে যদি ইয়েদুরাপ্পার এই ডায়েরিটি আয়কর দফতরের কাছে থেকে থাকে তাহলে বিজেপি বা মোদীজি এই ঘটনার তদন্ত কেন করেননি? এর পাশাপাশি কংগ্রেস এই ডায়েরি নিয়ে লোকপাল তদন্তের দাবি করেছে। দলের দাবি, দেশের সাধারণ মানুষ এই ঘটনার ব্যপারে জানতে চায়। কারণ ১৮০০ কোটি টাকা মোটেই কম নয়। তবে অন্যদিকে গোটা ঘটনাটিকে অস্বীকার করেছেন বিএস ইয়েদুরাপ্পা। তিনি বলেন, “আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ অনেক আগেই আয়কর দফতর জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নথি পুরোপুরি ভুয়ো।”””

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here