‘ডি ভোটার’ কর্তব্যরত সেনা কে গ্রেফতারের নির্দেশ অসমে

0
231
kolkata mujib

মহানগর ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন সেনা মহম্মড সানাউল্লাহর পরে এবার মুজিবর রহমান৷ অসমে ডি ভোটার হিসাবে চিহ্ণিত হয়েছেন৷ দেশ সেবার জন্য তিনি ‘বাংলাদেশি পুরস্কার’ পেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছ থেকে৷ তিনি বর্তমানে সীমান্তে দেশকে সুরক্ষার কাজ করছেন৷ অন্যদিকে অসম প্রশাসন তাঁকে সস্ত্রীক গ্রেফতার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে৷ ৩১ আগস্ট অসমে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশিত হবে৷ তার আগে ১০০ জনকে বিদেশি নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত করেছে অসম প্রশাসন৷ তাদের সবাইকে ডিটেনশন শিবিরে আটকের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ এদিকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল রাজ্যবাসীকে নাগরিকপঞ্জি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অসমে এসে অভয় দিয়েছেন নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)থেকে বাদ পড়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই৷ তঁরা ফরেনারস ট্রাইবুনাল আদালতে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আবেদন করতে পারেন৷

ভারতে আজ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী(বিএসএফ) এর আধিকারিকে আজ নিজের ও তাঁর স্ত্রীর নাগরিকত্বর পরিচয় দিতে হচ্ছে৷ তিনি এখন দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সীমান্তে নিজের প্রাণ বাজি রেখে পাহারা দিচ্ছেন৷ অন্যদিকে অসমে তাঁকে সস্ত্রীক গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন৷ অসমের গোলাঘাট জেলার উদয়পুর-মিকিপাত্তি অঞ্চলে থাকেন বিএসএফ- এর ১৪৪ ব্যাটেলিয়নের সাব ইনস্পেক্টর মুজিবর রহমান ও তাঁর স্ত্রী৷ টলতি বছরের জুলাই মাসে ডিউটি শেষ করে বাড়িতে ফিরলেই তিনি জানতে পারেন তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে ডি ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে৷ ৫২ বছরের এই বিএসএফ আধিকারিক এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুয়াহাটি আহইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন৷ তবে আদালত এখনও এই নিয়ে তাঁকে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি৷ এদিকে তিনি এখন পঞ্জাবে কর্তব্যরত৷ এই বিষেয় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি৷ তবে অসম সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে৷ তাঁকে সস্ত্রীক বাংলাদেশি হিসাবে চিহ্ণিত করা হয়েছে৷

অসম সহ দেশের বাঙালি সংগঠন, অসমের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠন আমসু, এআইইউডিএফ সহ বেশ কিছু সংগঠন মুজিবরের গ্রেফতারির নির্দেসের কড়া বিরোধিতা করেছে৷ এর আগে গোয়ালপাড়া জেলায় প্রাক্তন সেনা কর্মী মহম্মদ সানাউল্লাহকেও একইভাগে  ডি ভোটার ঘোষণা করে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন৷ তিনি এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুয়াহাটি হাইকোর্টে গিয়েছিলেন৷ তাঁকে আদালত আগাম জামিন দিয়েছিল৷ এইভাবে ৪০ লক্ষ লোককে নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷ অসমে এদের অনেককেই ডি ভোটারের নামে যখন তখন গ্রেফতার করে ডিটেনন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্দি রাখছে৷ অল বেঙ্গল স্টুডেন্টস অ্যান্ড ইয়ুথের জাতীয় সভাপতি চন্দন চট্টোপাধ্যায়ের সাফ অভিযোগ, শুরু থেকে নাগরিকপঞ্জি তৈরি ও ডি ভোটার চিহ্নিত নিয়ে গরমিল করেছে প্রশাসন৷ তাই এই তালিকার আমরা বরাবর বিরোধিতা করছি৷ বাংলাপক্ষর কৌশিক মাইতির প্রশ্ন, কর্তব্যরত সীমান্ত রক্ষী আধিকারিক বাংলাদেশি কীভাবে হন?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here