‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি ও গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হল বুলন্দশহর দাঙ্গায় অভিযুক্তদের

0
132
bulandsahar

মহানগর ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর দাঙ্গার পিছনে অভিযুক্ত ছিলেন এরাই। এদিন জামিনে জেল থেকে মুক্তি পেলেন। আর ছয় দাগী অভিযুক্ত মুক্তি পাওয়ার পরই ‘জয় শ্রী রাম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিয়ে বরণ করে নেওয়া হল তাদের। শুধু তাই নয়, সঙ্গে ছিল ফুলের মালা। সেই ফুলের মালা ছয় অভিযুক্তের গলায় পরিয়েই মহা উল্লাসে তাদের নিয়ে জেল থেকে রওনা দেয় জনতা। যেন দাঙ্গায় অভিযুক্ত আসামি নয় তারা। অভ্যর্থনার কায়দা দেখলে মনে হবে ক্ষুদিরাম বা ভগত সিং হয় তো জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

যেই ছয় অভিযুক্ত এদিন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তারা হলেন- জিতু ফৌজি, শিখর আগ্রওয়াল, উপেন্দ্র সিং রাঘব, হেমু, সৌরভ ও রোহিত রাঘব। জেল থেকে বেরনোর সঙ্গে সঙ্গেই স্লোগান দেওয়া শুরু করে জনতা। প্রত্যেককেই একই ভাবে ঢাক ঢোল পিটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় জেল থেকে। এমনকি তাদের দেখার সঙ্গে সঙ্গে সেলফি তোলার হিড়িকও পড়ে যায়, যেন কোনও সেলেব্রিটি স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে এসেছেন। পুরো ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

চলতি বছরেই বুলন্দশহরের কাছে মাহাভ গ্রামে গোমাংস পাওয়া নিয়ে এই সংঘর্ষ বাঁধে। উন্মত্ত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এলাকার প্রচুর ঘরবাড়ি ও দোকানে। বিঘ্নিত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। উস্কানি দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধেও লেলিয়ে দেওয়া হয় জনতাকে। গণ্ডগোলের মাঝে পড়ে জনতার পিটুনিতে মৃত্যু হয় সুবোধ কুমার সিং নামে এক পুলিশ অফিসারের।

চাপের মুখে অবশ্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। গোটা ঘটনায় ৩৮ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করে স্থানীয় আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ওই কমিটি। শুরু থেকেই অবশ্য সরকারের ওপর অভিযোগ ছিল আসল দোষীদের আড়াল করার। কারণ তারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও ভাবে গেরুয়া শিবিরের সংস্পর্শে ছিল। মূল অভিযুক্ত শিখর আগ্রওয়াল যুব মোর্চার সদস্য ছিল। ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর গ্রেফতার করা হয় তাকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here