ডেস্ক: দিল্লির বুরারিতে একই পরিবারের ১১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু রহস্যের জট ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এই ঘটনায় এখনও অবধি তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে গুপ্তসাধনার ফলেই আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলেও, কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এক তান্ত্রিকের খোঁজে অভিযান শুরু করল দিল্লি পুলিশ। ভাটিয়া পরিবারের লোকেদের মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে এই তান্ত্রিকের সন্ধান পেয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পুলিশের সন্দেহের তীর মৃত বাড়ির ছোট ছেলে ললিত ভাটিয়ার দিকে।

পুলিশ সুত্রে খবর, ললিত প্রায়ই দাবি করতেন যে মৃত বাবা নাকি তাঁর স্বপ্নে আসে। এমনকি রেজিস্টারে লেখাও আছে যে, ‘বাবা বলেছেন শেষ সময়ে ঝটকা লাগবে, আকাশ দুলবে, মাটি কাঁপবে কিন্তু তুমি ভয় পেও না। মন্ত্র বেশি করে জপ কর, আমি বাঁচাব তোমায়। জলের রং যখন বদলে যাবে নীচে নেমে পড়, একে অন্যকে নামতে সাহায্য কর, তোমরা মরবে না, বড় কিছু লাভ করবে’। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘরে যাগযজ্ঞও হয়েছিল। কিন্তু ভাটিয়া পরিবারের আত্মীয়রা মানতে নারাজ যে পরিবারের সদস্যরা কোনও তান্ত্রিকের খপ্পরে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে রাগে থরথর করে কাঁপছিলেন সুজাতা নাগপাল। তাঁর দাবি,‘আমার মা, দুই ভাই, বোন ও তাদের ছেলেমেয়েদের খুন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন যে ভাইয়েরা কেউ তন্ত্রমন্ত্র বা গুপ্তসাধনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তা হলে তিনি তা টের পেতেন।

তদন্তকারীদের মতে, কোনও তান্ত্রিক ভাটিয়া পরিবারকে এই পথে যেতে চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারে । তার নির্দেশ মতোই ডায়েরিতে আত্মহত্যার প্রক্রিয়া লিখে রাখা ছিল। সেই হাতের লেখা কার, তারও তদন্ত শুরু হয়েছে। কোনও তান্ত্রিক আত্মহত্যায় মদত দিয়ে থাকলে তার পিছনে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এর পাশাপাশি সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বিবাদ বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে কেউ এই কাজ করেছে কিনা তার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here