kolkata news

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতায় লকডাউনের মধ্যেই গণপরিবহণকে স্বাভাবিক করে তুলতে কলকাতার বুকে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়তে চলেছে। এখন যেখানে ১৫টি রুটে সরকারি বাস চলছে সেখানে তা বাড়িয়ে ৭৪টি করা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন ৪৯টি রুটে বাস চালু হতে চলেছে জুন মাস থেকে। সেই সঙ্গে অফিস টাইমে প্রতিটি রুটে ঘণ্টায় অন্তত যেন ৪টি করে বাস ১৫ মিনিট অন্তর ছাড়ে, সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

চেষ্টা করা হচ্ছে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া ও হুগলি জেলার সঙ্গে এই ৭৪টি বাসরুট দিয়ে যেন কলকাতার সঙ্গে নিত্যদিনের যোগাযোগের রাস্তাটা খুলে দেওয়া যায়। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে বাসের পরিষেবার সময়সীমাও। এখন যা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা অবধি আছে তা বাড়িয়ে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা অবধি করা হতে পারে। তবে এই সবই এখন পরিকল্পনার স্তরে। এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে এসব কিছুই ঘোষণা করা হয়নি। সব খবরই নবান্ন সূত্রে পাওয়া গিয়েছে।

একই সঙ্গে এবার দাবি উঠেছে বাসে এখন যে নূন্যতম যাত্রী সংখ্যা বেঁধে দেওয়া আছে ২০-তে সেটা যেন বাড়িয়ে ৪০ করা হয়। এই দাবি তুলছেন নিত্যযাত্রীরাই। তাঁদের বক্তব্য, বাসের যাত্রীসংখ্য ২০-তে বেঁধে রাখলেই যে করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এ কথা ভাবা অত্যন্ত ভুল। এই সংখ্যাতত্ত্বের জোরে করোনাকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এই মারণ ভাইরাস শুধু যে বাস থেকেই ছড়াচ্ছে বা ছড়াবে এই রকম কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই শুধুমাত্র বাসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাতত্ত্ব আঁকড়ে পড়ে থাকলে দীর্ঘমেয়াদী স্তরে ধাক্কা আসবে। তাছাড়া যে বেসরকারি বাসের মালিকেরা ২০জনের যাত্রী সংখ্যা মেনে বাস চালাতে চাইছেন না তাঁরাও হয়তো ৪০ জনের বিধি মেনে নিলেও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে কলকাতায় বেসরকারি বাসের চাকা গড়ালেও গড়াতে পারে।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১৫টি রুটে বাস চালু করেছে।

কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা যে নিতান্ত অপ্রতুল সেটাও প্রতিদিনই চোখে ধরা পড়ছিল আমপান আসার আগে পর্যন্ত। দেখা যাচ্ছিল বাস যেখান থেকে ছাড়ছে সেখানেই ২০জন যাত্রী উঠে পড়ছেন। তাই মাঝপথে আর যাত্রী তুলতেই পারছে না ওই বাস। ফলে মাঝ রাস্তায় যারা বাস ধরার অপেক্ষায় বাসস্টপে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁরা কার্যত কোনও বাসেই উঠতে পারছেন না। এবার এই ছবি বদলাতে উদ্যোগী হচ্ছে পরিবহণ দফতর। সব কিছু ঠিক থাকলে জুন মাস থেকেই কলকাতার বুকে বাড়তে চলেছে বাসের সংখ্যা ও রুট। সেই সঙ্গে দাবিও উঠেছে নূন্যতম যাত্রী সংখ্যা ২০ থেকে বাড়িয়ে যেন ৪০ করা হয়।

মারণ ভাইরাস নভেল করোনার প্রকোপ যে চট করে যাওয়ার নয় তা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। এটা মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে এই মারণ ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। কেন্দ্র সরকারও তাই চতুর্থ দফা লকডাউনের মাঝেই দেশের জনজীবনকে কিছুটা সচল করে তুলতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে শুরু করেছে। ছাড় দিচ্ছে রাজ্য সরকারও। কারণ লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় সব থেকে বড় আঘাত এসেছে দেশের অর্থনীতির ওপরে। সেই অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবার লকডাউনের মধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা খোলার ছাড়পত্র দিয়েছিল তৃতীয় দফার লকডাউন চলার সময়েই। তার জেরে শহর কলকাতাতেও ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়েও খুলেছে বেশ কিছু অফিস। এর সঙ্গে রয়েছে পুলিশ, হাসপাতাল, সংবাদমাধ্যম, পুরসভার মতো জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্রের কর্মীরাও। তার জেরে নিত্যদিন বাস ধরার ভিড়ও হচ্ছে বাসস্টপগুলিতে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে যারা বাস টার্মিনাস থেকে বাসে উঠতে পারছেন তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেও মাঝপথ থেকে যারা উঠতে চাইছেন তাঁরা বাস ধরতেই পারছেন না। ফিরতি পথেও সেই একই সমস্যা হচ্ছে।
এবার এই বাস যন্ত্রণা থেকে আমজনতাকে মুক্তি দিতেই ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যেমন লাভ হবে আমজনতার তেমনই মিটবে পরিবহণ ক্ষেত্রের সংকটও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here