ডেস্ক: একদিনের উপনির্বাচনেই ভ্যানিশ ‘মোদী ম্যাজিক’! বৃহস্পতিবার ছিল দশটি রাজ্যের ১০টি বিধানসভা ও ৪টি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন৷ সর্বত্রই দেখা গিয়েছে বিরোধী কিংবা বিরোধী জোটের জয়জয়কার৷ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি৷ উপনির্বাচন হলেও গোটা দেশের নজর ছিল ফলাফলের দিকে৷ ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচন ছিল নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের জুটির কাছে অগ্নি পরীক্ষা৷ আর এই পরীক্ষায় ডাহা ফেল মোদী-শাহ৷ কর্ণাটকে সরকার গড়তে ব্যর্থ হওয়ার পর লোকসভা নির্বাচনের আগে ড্যামেজ কন্ট্রোলের একটা সুযোগ ছিল এই উপনির্বাচনগুলি৷ সেটা তো হলোই না, উল্টে ড্যামেজ হয়ে গেল গেরুয়া শিবির৷ যা দেখে খুব স্বাভাবিকভাবেই কপালে ভাঁজ পড়ছে মোদীর৷

আর এখান থেকেই উঠে এলো বিজেপির জন্য ভয়ঙ্কর একটা তথ্য৷ এই মুহূর্ত থেকে কেন্দ্রে আর একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল রইল না বিজেপি৷ উপনির্বাচনের যে চারটি লোকসভার আসনে নির্বাচনের ফলাফল সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের পরে বিজেপির মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৮২৷ গত চার বছরে বিভিন্ন উপনির্বাচনে হারতে হারতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৭২-এ৷ ৫৪২টি আসন বিশিষ্ট লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে ২৭২ আসন পাওয়া জরুরি৷ এদিন দুটি লোকসভা আসনে ফের পরাজয়ের ফলে এখন বিজেপির মোট আসন সংখ্যা ২৭০৷ যা ম্যাজিক ফিগার থেকে দুই কম৷ অর্থাৎ, বিজেপিকে এখন থেকে এনডিএ জোটসঙ্গীর উপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে৷ আর এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মুচকি হাসছে একদা জোটসঙ্গী শিবসেনা ও চন্দ্রবাবু নাইডুর দল টিডিপি৷ ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে যা যথেষ্ট অস্বস্তিতে রাখল মোদী-অমিত শাহকে৷ কপালে ভাঁজ পড়ল গেরুয়া শিবিরের ম্যানেজারদের৷

অন্যদিকে, নতুন অক্সিজেন পেয়ে অনেকটাই চাঙ্গা রাহুল গান্ধির কংগ্রেস৷ আঞ্চলিক দলগুলিও কেউ এককভাবে, কেউ আবার জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করে মোদীর ঝড় থামিয়ে দিয়েছে৷ এদিন উপনির্বাচনের ফলাফলে গোটা দেশের নজর ছিল উত্তরপ্রদেশ কৈরানা লোকসভা এবং নুরপুর বিধানসভা আসনটির দিকে৷ দুটি আসনই ছিল বিজেপির দখলে। এবং দুটিতেই তারা গো-হারা হেরেছে৷ মনে রাখা দরকার, উত্তর প্রদেশে কিন্তু জাতীয় রাজনীতির চালিকা শক্তি৷ সেখানে বিজেপি পিছনে ফেলে বাজিমাৎ করল বিরোধী জোট৷ এই উত্তর প্রদেশ থেকে জিতেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী৷ বিধানসভায় সিংহভাগ আসন জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ৷ কিন্তু কেন্দ্রে-রাজ্যে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা নিয়েও একের পর এক উপনির্বাচনে উত্তর প্রদেশে মুখ থুবড়ে পড়ছে মোদীর দল৷ প্রসঙ্গত, জাতীয় রাজনীতিতে উত্তকর প্রদেশের গুরুত্ব অপিরসীম৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, ‘উত্তর প্রদেশ যেদিক, কেন্দ্রের সরকার সেদিকে’৷