anurag kashyap

মহানগর ওয়েবডেস্ক: অসম জ্বলছে, ত্রিপুরা জ্বলছে, পুড়ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অংশ। যার জন্য বন্ধ ইন্টারনেট, বিপর্যস্ত জনজীবন। পশ্চিমবঙ্গেও যার রেশ এসে পড়েছে। দিকে দিকে বন্ধ রয়েছে ট্রেন-বাস। পুড়ে ছাই রাস্তাঘাট। বিপর্যস্ত জনজীবন। কেন্দ্রীয় সরকারের সিএএ আইন অর্থাৎ নাগরিকত্ব আইন লোকসভা ও রাজ্যসভাতে পাশ করানোর পর আইনে পরিণত হতেই শুরু হয়েছে গন্ডোগল। আর এই অবস্থার জন্য দায়ী বিজেপি সরকার, ঠিক এমনটাই তোপ দেগে বক্তব্য পেশ করলেন অনুরাগ কাশ্যপ। তিনি গতকাল জানিয়েছেন, ”আমার প্রতিক্রিয়াতে কিছুই যায় আসেনা, দেখুন এটা কীভাবে চলছে আর কীভাবে চলবে। এটাকে আপনি আটকাতে পারবেন না। আমরা এইগুলোর জন্যই তো ভোট দিয়েছিলাম, তাই আমাদের এইগুলো পেতেই হবে সারাজীবন। তাই আমি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে দিয়েছি আর কোনও কিছু নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছি না।”

তিনি আরও জানান, ”হয় আপনাকে পুরো ব্যাপারটির মধ্যে প্রবেশ করতে হবে আর নয় হাল ছেড়ে চুপ করে বসে থাকতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষকে এই ঘটনাগুলির মধ্যে দিয়েই যেতে হবে, কারণ যেখানে খুশি যা খুশি হতেই পারে। এর থেকেও ভয়ানক পরিস্থিতি হতে পারে। যতদিন না সমাজের সাধারণ মানুষ বুঝবে তারা কী ভুল করেছে।” রাজ্যসভাতে বিল পাশের পরেই দেশজুড়ে প্রায় ৬৫০ বেশি বুদ্ধিজীবিরা খোলা চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই তালিকায় নাম রয়েছে, অরুন্ধতি রায়, পাল জাচারিয়া, অমিতাভ ঘোষ, অপর্ণা সেন ছাড়াও আরবও অনেকে। সিএএ আইনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়ে। এই তিন রাজ্যে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি জারি করা হয়েছে কার্ফু। এই কার্ফুর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করার জেরেই অসমে এবার সেনার গুলিতে প্রাণ গিয়েছে দুই নাবালক প্রতিবাদীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই দুই নাবালকের নাম দিপাঞ্জল দাস ও জেমস। জানা গিয়েছে, দিপাঞ্জল গুয়াহাটির সৈনিক ভবনের অস্থায়ী কর্মী। বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরার পথে গুয়াহাটিতে প্রতিবাদ র‍্যালিতে যোগ দেয় ওই যুবক। ওই মিছিলে অসমের একাধিক শিল্পী, গায়ক, অভিনেতাদের পাশাপাশি ছিলেন জুবিন গর্গও। সেখান থেকে বেরিয়ে ওই যুবক লাচিত নগরে কিছু প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে হাঁটতে থাকে। মিছিল হিংসাত্মক রূপ নিলে সেই মিছিলেই গুলি চালায় পুলিশ। দিপাঞ্জলকে দ্রুত গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

পাশাপাশি বৃহস্পতিবার জেমস নামে ১৭ বছরের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে। হাতিগাঁও এলাকার বাসিন্দা ওই যুবকও গুয়াহাটিতে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল। কার্ফু জারি থাকার মাঝে চলা এই প্রতিবাদে গুলি দ্বিধা করেনি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের ছোড়া গুলি ওই যুবকের ঘাড় ফুঁড়ে বেরিয়ে যায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই নাবালকের। এদিকে গুয়াহাটিতে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অসম। এর আগেও এখানে প্রতিবাদীদের উপর পুলিশের গুলি চালনায় মৃত্যু হয়েছে ৩ প্রতিবাদীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here