নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নদীয়ার বাসিন্দা কৌশিক কর্মকারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে নদিয়া থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তে ও পুলিশের রিপোর্টে ওই যুবক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। রাজ্যের কৌঁসুলি আদালতে জানান, ‘সেদিন রাতে গাড়ি সারাতে কৌশিক বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তার গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। এবং মৃত্যুর সময়ে সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।’

সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কৌশিকের পরিবার। বিচারপতি রাজ শেখর মন্থা মামলা নিষ্পত্তি করে দেন। কারণ একজন সাক্ষী জানিয়েছিল কৌশিক সেই রাতে মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর জন্য দুর্ঘটনা ঘটে ছিল। এবং কৌশিকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অ্যালকোহল পাওয়া যায়।

তবে কৌশিকের মা শ্যামলী কর্মকারের দাবি, তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তাই বিচারপতি রাজ শেখর মন্থার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন। কৌশিকের পরিবারের পক্ষের আইনজীবী অচ্যুত বোস আদালতে জানান কৌশিক এক জন ডিভোর্সি মেয়েকে বিয়ে করে। তাঁর ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর বউমা রিয়া কর্মকার আত্মহত্যা করে মারা যান। সুইসাইড নোটে তার বৌমা জানিয়েছিলেন, এই মৃত্যুর পিছনে তার আগের স্বামীর হাত রয়েছে। সে তাদেরকে সুখে থাকতে দেবে না বলে হুমকিও দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তদন্তে এসব কিছুই করেনি।’

শুক্রবার মামলার শুনানিতে কৌশিকের পরিবার অভিযোগ কে মান্যতা দিল হাইকোর্ট। ডিআইজি সিআইডি নেতৃত্বে ঘটনার তদন্ত করে আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি কৌশিক ডিভিশন বেঞ্চ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here