নিজস্ব প্রতিবেদক, কালনা: সূদুর কানাডা থেকে কালনায় ছুটে এসে নিজের ভালোবাসাকে খুঁজে নিল ক্যাথরিন। ভরা আশ্বিনেই চার হাত এক হয়ে গেল। প্রেম কোনও গণ্ডি মানে না। দেশ, ভাষা, জাতি সবকিছুর উর্ধ্বে যে ভালবাসার স্থান তা হয়তো আরও একবার প্রমাণ করল টিঙ্কু ও ক্যাথরিনের ভালবাসা। একে অপরের প্রতি টানই সূদুর কানাডা থেকে ক্যাথরিনকে টেনে নিয়ে এসেছে কালনায়। সময়ের দূরত্বটা অনেকটা, কিন্তু মনের কোনও দূরত্ব নেই। বছর খানেক আগের কথা! কালনার আশ্রম পাড়ার বাসিন্দার টিঙ্কু রায়ের দিন কাটছিল যোগ শিক্ষায়। কানাডার ক্যাথরিন কইল্লেত্তে স্কুলের ছাত্র পড়াতে ব্যস্ত ছিল। স্কুলের ছুটি পড়লে ভারতে পা রাখে ক্যাথেরিন। বেড়ানোর পরিকল্পনা করেই মূলত এদেশে আসে এই বিদেশীনি। যোগ ব্যায়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে দিল দুই পৃথক দেশের দুটি মনকে।

আত্মীয়-পরিজন, বন্ধুবান্ধব, ভাষার দূরত্ব সব ছেড়ে ক্যাথরিন উড়ে এলেন নিজের ভালবাসার কাছে। এখন কালনাই ক্যাথরিনের নতুন ঠিকানা। তার পরিচয় সে টিঙ্কুর স্ত্রী। এখন এই বিদেশীনি নতুন সংসার সাজাতে ব্যস্ত। শাঁখা-সিঁদুর, শাড়ি পরা অভ্যেস করছে সে। চা করা, রুটি বেলা সবই শিখছে নতুন বউ। ভাঙা ভাঙা বাংলায় কিছুদিনের মধ্যেই সকলের মন জয় করেছে ক্যাথরিন। টিঙ্কুর পরিবারও ক্যাথরিনকে সব কিছু মানিয়ে নিতে দেখে খুব খুশি। তার মিষ্টি স্বভাব তাদের মন ছুঁয়েছে। ক্যাথরিন এখন তাদের ঘরের মেয়ে। কানাডায় একটি স্কুলে পড়ানোর সময় থেকেই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি এক আলাদা উতসাহ ছিল ক্যাথরিনের। সেই সংস্কৃতির টানেই স্কুল ছুটির ফাঁকে ভারতে ঘুরতে এসেছিলেন তিনি। হৃষিকেশে ঘুরত গিয়ে একটি যোগ ব্যায়ামের অনুষ্ঠানে কালনার আশ্রম পাড়ার বাসিন্দা টিঙ্কুর সঙ্গে দেখা হয় ক্যাথরিনের। বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে।

ফেসবুক থেকে ম্যাসেঞ্জারে কথা বাড়তে থাকে। কালনার অতি সাধারণ বাড়ির ছেলেটির প্রেমে পড়ে যান ভিনদেশী এই মেয়েটি। টিঙ্কুকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেন। প্রথমে টিঙ্কুকে ভালবাসার প্রস্তাব দেয় সে। কিন্তু বিদেশীনিকে ঘরে তোলার আগে সংশয় হচ্ছিল টিঙ্কুর। ক্যাথরিন কিভাবে কালনায় এসে মানিয়ে নেবে ভেবে ঘাবড়ে গিয়েছিল টিঙ্কু। কিন্তু মনের টান কি ঘোচানো যায়। তাই টিঙ্কুর কথা বাড়িতে জানান ক্যাথরিন। দুই পরিবারের মধ্যে কথা হয়। কানাডা পৌঁছে ক্যাথিরনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে টিঙ্কু। ক্যাথরিনের মা বাবাও মেয়ের হবু শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলেন। সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বাঙালি মতে টিঙ্কু নিজের বাড়িতেই বিয়ে সেরে নেন। এইভাবেই দুই বাড়ির সম্মতিক্রমে ভরা আশ্বিনে চার হাত এক হল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here