news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সারা দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর গ্রাফ রোজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে। এরই মধ্যে রবিবার শেষ হচ্ছে চতুর্থ দফার লকডাউনের মেয়াদ। এমতবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়েছিল গোটা দেশ। সংক্রমণের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা লকডাউনের ফলে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়ানো অর্থনীতিকে রক্ষা করার জোড়া চ্যালেঞ্জ নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ কি ভাবে মোকাবিলা করবেন তার দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। সেই প্রত্যাশার জবাব দিতে এবার নতুন করে ঘুঁটি সাজিয়েছে কেন্দ্র। রাজ্য প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর করোনা যুদ্ধের নতুন কৌশল ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। এই পর্বে সোমবার থেকে নতুন করে যো প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে তাকে লকডাউন ৫ না বলে ‘আনলক ১’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশিকায়। অর্থাৎ এই পর্বে ধাপে ধাপে শিথিল হবে লকডাউন।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এখনও লকডাউন জারি থাকছে। এই পর্বে পুরোপুরি লকডাউন জারি থাকছে শুধুমাত্র কনটেনমেন্ট জোন গুলিতে। সেখানে বেশ কিছু নিয়ম এখনও জারি থাকছে। তবে অন্যান্য জায়গায় নিয়ম শিথিল হচ্ছে। ৮ জুন বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে সব ধরনের কাজকর্ম চলবে, তবে একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে। ৩০ জুন পর্যন্ত এই নিয়ম জারি থাকবে। এছাড়া, অর্থনীতির গতি ফেরানোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে এই পর্বে। এর আগের চারদফার লকডাউন পর্বে যেসব কাজকর্মে বিধি নিষেধ ছিল, এবার কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে তার সবই চালু করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জারি করা নিয়মের ভিত্তিতে সব কিছু চালু হবে। কয়েকটি দফায় ভাগ করে ধাপে ধাপে সব কিছু স্বাভাবিক করে তোলা হবে।

প্রথম পর্বে ৮ জুন থেকে খোলা হবে ধর্মস্থান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল। দ্বিতীয় পর্যায়ে খুলবে স্কুল, কলেজ, ট্রেনিং ইনস্টিউট। তবে সেক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে কথা বলে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে খোলা হবে। তৃতীয় ধাপে খোলা হবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা, মেট্রো রেল, সিনেমা হল, জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক ইত্যাদি। তবে এগুলি কবে খোলা হবে তা পরিস্থিতি নির্ধারণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পর্বেও সারা দেশে নাইট কারফিউ বজায় থাকবে। সারাদেশে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত লোক চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সামাজিক দূরত্বের নীতি ও সুরক্ষা সংক্রান্ত সব রকম নিয়ম কানুন সারা দেশে কঠোর ভাবে বলবৎ থাকছে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।

প্রকাশ্য এলাকায় ফেস মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, সেই সঙ্গে মানতে হবে সামাজিক দূরত্বের (৬ ফুট) বিধি। বড় জমায়েতও চলবে না। বিয়েতে নিমন্ত্রণ করা যাবে ৫০ জনকে, শেষকৃত্বে ২০। প্রকাশ্যে থুতু ফেলা, মদ্যপান, পান, গুটখা খাওয়া চলবে না। যতটা পারা যায় বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। বাজারের মতো জনসাধারণের এলাকাগুলিতে থার্মাল স্ক্রিনিং, হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার-এর ব্যবস্থা করা হবে। কাজের জায়গাতেও সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং দরজার হাতলের মতো যেসব জিনিস প্রায় সকলেই স্পর্শ করেন, সেইসব মাঝে-মাঝেই স্যানিটাইজ করতে হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পর্য়ায়ের লকডাউন সংক্রান্ত নির্দেশিকা ঘোষণার পরে রাজ্য সরকারের তরফেও এসংক্রান্ত পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় নবান্নের তরফে আরও নতুন নতুন ক্ষেত্রেকে ছাড়ের আওতায় এনে লকডাউনের মেয়াদ আরও দুসপ্তাহ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। নবান্নের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে চা বাগান, পাটশিল্প এবং আবাসন ক্ষেত্রে ১ জুন থেকে ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করা যাবে। মাঝারি-ক্ষুদ্র-অতিক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলিও সোমবার থেকেই ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে পারবে।একই নিয়ম লাগু হবে খনিজ ক্ষেত্র ও বৃহৎ শিল্পসংস্থাগুলি ১ জুন থেকে ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়েই কাজ করতে পারবে। রাজ্যের মধ্যে ও অন্য রাজ্যের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বাস পরিষেবা চালু করা যাবে ১ জুন থেকে। তবে যতগুলি আসন, ততজন যাত্রীকেই নিয়ে বাস চালাতে হবে। কেউ বাসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। সকলকেই মাস্ক, গ্লাভস পড়তে হবে। স্থানীয় থানার অনুমতি নিয়ে ১ জুন থেকে সব ধর্মীয় স্থান খুলে যাবে, তবে একসঙ্গে দশ জনের বেশি লোকের ভিড় করা যাবে না। করা যাবে না কোনও বড় অনুষ্ঠানও। ১ জুন থেকে ৩৫ জনকে নিয়ে ইন্ডোর ও আউটডোর সবরকম শুটিং করা যাবে। তবে সেখানেও অবশ্যই সামাজিক দুরত্ববিধি মানতে হবে।

সরকারি দফতরে ৮ জুন থেকে ৭০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ হবে। কিন্তু তা হবে একদিন অন্তর। অর্থাৎ একজন কর্মী সপ্তাহে তিন দিন আসবেন। বেসরকারি সংস্থাও ৮ তারিখ থেকে কাজ শুরু করতে পারবে। তবে কতজন কর্মী নিয়ে কাজ করবে তা তারাই ঠিক করবে। কিন্তু তা ৭০ শতাংশের বেশি হবে না। তবে বেসরকারি ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে কাজ করাকেই সরকারি উৎসাহ দিচ্ছে। সব রকম হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল ৮ জুন থেকে খুলে যাবে। তবে সেখানে সামাজিক দুরত্ববিধি কঠোরভাবে মানতে হবে সকলকেই। নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিয়মের বাইরে কোনওভাবেই যাওয়া যাবে না। যদি নিয়ম ভাঙা হয়, তাহলে সেই সংস্থা কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকার কঠোরভাবে আইনি পদক্ষেপ করা হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here