পাঁচ কোটি যাত্রী ধারণের উপযুক্ত টার্মিনাল গড়তে কলকাতা বিমানবন্দরে বিপুল বরাদ্দ কেন্দ্রের

0
155

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কলকাতা বিমানবন্দর ঢেলে সাজাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের ২৪টি বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের জন্য আগামী তিন বছরে ১৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে কলকাতার নেতাজী সুভাষ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে।

কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও উড়ানের চাপ সামাল দিতে গত জানুয়ারিতে এই বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব এয়ারপোর্ট অথরিটির কাছে পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাবে সম্প্রতি ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই কলকাতা বিমানবন্দরের উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। রানওয়ে ও টার্মিনালের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিকীকরণের স্বার্থে আরও একগুচ্ছ কাজ করা হবে বলে বিমানবন্দর সূত্রে খবর।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী কলকাতা বিমানবন্দরের বর্তমান এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার ও পুরনো ডোমেস্টিক টার্মিনাল সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে। সেখানে তৈরি হবে আধুনিক প্রযুক্তির আরও ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন টাওয়ার ও ঝাঁ চকচকে যাত্রী টার্মিনাল। এখন কলকাতায় ১৮টি এরোব্রিজ রয়েছে। আরও ৩০টি নতুন এরোব্রিজ বসানো হবে। এটিসি পার্কিং বে-র সংখ্যা বাড়ানো হবে। এখন কলকাতায় ৫১টি পার্কিং বে আছে। ২০২০ সালের মধ্যে আরও ২০টি পার্কিং বে তৈরি করা হবে।

কৈখালি থেকে বিমানবন্দরের সংযোগকারী রাস্তা চওড়া করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ওই উড়ালপুল প্রস্তাবিত নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রোর সঙ্গেও টার্মিনালের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ধারণা, কলকাতার যাত্রী সংখ্যা আগামী তিন বছরের মধ্যে সাড়ে ৩ কোটি ছোঁবে। সে কথা মাথায় রেখেই সম্প্রসারণের কাজ করা হবে। এক কর্তার কথায়, ‘২০২৮ সালকে লক্ষ্য হিসেবে রেখে সম্প্রসারণের কাজ করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই পাঁচ কোটি যাত্রী ধারণের উপযুক্ত নতুন টার্মিনাল তৈরি করা হবে।’

কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উড়ানের পরিমানও ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে এই শহর থেকে উড়ান যাতায়াতের সংখ্যা ছিল দেড় লক্ষের কাছাকাছি। উড়ানের বাড়তি চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পার্কিং বে-র সংখ্যা বাড়েনি। বহু বিমানসংস্থা কলকাতায় রাতে বিমান পার্ক করে রেখে ভোরে উড়ান চালাতে চাইছে। কিন্তু পার্কিং বে-অভাবে তা দেওয়া যাচ্ছে না। প্রাথমিক ভাবে ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে ট্যাক্সিওয়ে সম্প্রসারণ, ২০টি পার্কিং বে তৈরি এবং বিমানবন্দরের নিকাশি ব্যবস্থার কিছু কাজ করা হবে। ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ হবে নতুন টার্মিনাল তৈরির কাজ। এই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই এগোনো হচ্ছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here