news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কলকাতা-সহ শহরতলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনার জন্য এবার কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা এনটিপিসি ও পাওয়ারগ্রিডকে নির্দেশ দিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং। সোমবারই কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌড়া রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও যে কোনও রকম সাহায়্যের জন্য তাঁরা প্রস্তুত আছেন। তার পরেই বিদ্যুত মন্ত্রকের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মন্ত্রী এই দুই সংস্থার কর্তাদের বলেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে লোকবল দিয়ে কলকাতা ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলে বিদ্যুৎ যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে দিতে হবে। মন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালেই এই দুই সংস্থার তরফ থেকে নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে জানা গিয়েছে ।

যদিও নবান্নের তরফে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। পাশাপাশি, গতকাল রাতে আম্ফান পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করল জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটি। সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌড়ার পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে আশ্বস্ত করা হয় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা করা হবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আম্ফান বিধ্বস্ত রাজ্যে এসে প্রাথমিকভাবে ১০০০ কোটি টাকার সহায়তার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই টাকা রাজ্যের অ্যাকাউন্টে এসেও গিয়েছে গত সপ্তাহে। তারপরেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রাজ্যকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় উম্পুন উত্তর পরিস্থিতিতে রাজ্যে বিদ্যুৎ , পানীয় জল, টেলিযোগাযোগসহ প্রাথমিক পরিষেবাগুলি অনেকাংশেই স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নবান্নে জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১০৩টি পুর এলাকার মধ্যে ৯৪টি তে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে এসেছে। বাকি নটি এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ৯০ শতাংশ গ্রামীণ এলাকাতেও বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানো হয়েছে বলে বিদ্যুৎ দপ্তর রিপোর্ট দিয়েছে। অন্যদিকে সিএসসি জানিয়েছে কলকাতাতেও ৯৫ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। সোমবারের মধ্যেই ৯৭ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ এসে যাবে বলে তাদের আশ্বাস। ৮৫ শতাংশ টেলি যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন। জল পরিষেবাও স্বাভাবিক হয়েছে প্রায় সমস্ত জায়গায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতা সঙ্গে কাজ চলছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

তিনি আরো জানান, ঘূর্ণিঝড় উম্পুনে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬ কোটি মানুষ এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬টি জেলা। ৮ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে এখনো ৩ লক্ষ মানুষ এখনো ত্রাণ শিবিরগুলোতে রয়েছেন। তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার ও পানীয় জল সহ বিভিন্ন রকম ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার আরও বিস্তারিতভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছে বলে স্বরাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here