news bengali

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিদ্যুৎ সংযোগ হচ্ছে না কেন? এর জন্য দায়ী কে? কলকাতা পুরসভার নাকি সিইএসসি? রবিবার দিনভর চলল এই তরজা। আমফানের তাণ্ডবের পর পেরিয়ে গিয়েছে ৯৬ ঘণ্টা। তারপরেও শহরের বহু জায়গায় পৌঁছয়নি বিদ্যুৎ পরিষেবা। এই অবস্থায় চলল পারস্পরিক দোষারোপ পাল্টা দোষারোপ। গাছ না কাটার জন্যই বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে দেরি হয়েছিল বলে দাবি করেছে সিইএসসি। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার দাবি সিইএসসির জন্যই মানুষ অসুবিধার মধ্যে পড়েছে।

২০ মে শহরের বুকে ধ্বংসলীলা চালিয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। তারপরে কেটে গিয়েছে আরও চার দিন। তবু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে শহর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এই অবস্থায় জল ও বিদ্যুতের জন্য পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। যদিও এই দায় নিজেদের ঘাড়ে নিতে নারাজ সিইএসসি অথবা কলকাতা পুরসভা।

নাগরিকদের এই অসুবিধার জন্য এদিন সিইএসসি–কেই দায়ী করেছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর অভিযোগ, ‘সিইএসসি জন্য মানুষের অসুবিধা। গাছ কাটার জন্য লাইন ফেরাতে দেরি হয়নি বরং কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল, সিইএসসি না আসা পর্যন্ত তাই গাছ কাটা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় আমাদের লোক গিয়েও লাইন বন্ধ করতে পারেননি। খবর দেওয়ার দু’দিন পর সিইএসসি গিয়ে সেখানে লাইন বন্ধ করেছে। গাছ কাটার তালিকা দেয়নি সিইএসসি। মানুষের অসুবিধা হয়েছে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’

একই সঙ্গে প্রশাসক জানান, ‘সিইএসসি কলকাতা পুরসভার আন্ডারে নয় বা রাজ্য সরকারের আন্ডারে নয়। সিইএসসির ব্যর্থতার দায় সরকারের হতে পারে না। তাও মানুষের সুবিধার্থে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সিইএসসি দফতরে গিয়েছিলেন। তারা কথা দিয়েছেন সমস্ত জায়গায় লাইন চলে আসবে কিছুদিনের মধ্যেই। আজকে নবান্নতে সিইএসসি জানিয়েছে ইতিমধ্যে ৫০% জায়গায় লাইন চলে এসেছে।’ অন্যদিকে ইতিমধ্যেই গাছ কাটার জন্য কলকাতা পুরসভার তরফে অতিরিক্ত ৩৬০ জন লোক নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান ফিরহাদ হাকিম।

অন্যদিকে, প্রথম থেকেই সিইএসসি’র অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গাছ পড়ে রয়েছে। সেই সমস্ত গাছ কাটেনি কলকাতা পুরসভা। তার ফলেই লাইন দিতে দেরি হয়েছে। তবে সিইএসসি’র এই অভিযোগ মানতে নারাজ কলকাতা পুরসভা। প্রশাসকের কথায়, ‘শুধুই গাছ কাটা হয়নি বলে সমস্যা এমন নয়। সিইএসসি পরে জানিয়েছে, তাদের লোকের অভাব ছিল। দোষারোপ করার সময় এটা নয় । আগাম পরিকল্পনা থাকলেও গাছ কাটতে সময় লাগে। ফ্ল্যাটের নিচে জল দেওয়া হয়েছে তাতেও অসুবিধা হচ্ছে।’

ইতিমধ্যেই দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরে নেমেছে সেনাবাহিনী। এদিন সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘সেনা সাহায্য যথেষ্ট কাজে লেগেছে। দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে সেনা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি আমরা। মুখ্য সচিব আজ সিইএসসি’র সঙ্গে কথা বলেছেন। সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল করছে। কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে আশা করা যাচ্ছে।’ এই অবস্থায় বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘দেশ করোনায় আক্রান্ত, সেটা মোদীর দোষ হতে পারে না। সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষকে রক্ষা করতে হবে। যারা এই সময় দোষ ধরছেন, তারা আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছেন। এখন রাজনীতি করার সময় নয়। এখন মানুষকে সার্ভিস দেওয়ার সময়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here