kolkata news

Highlights

  • জন্ম থেকেই ‘মা’ বলতে ওদের নিজের কেউ নেই
  • ওই শিশুদের কোলেপিঠে মানুষ করেছেন হাসপাতালের নার্স ও আয়ারা
  • সেই শিশুরা তাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি কেউই


নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার:
জন্ম থেকেই ‘মা’ বলতে ওদের নিজের কেউ নেই। তাই এতদিন ওদের আশ্রয়স্থল ছিল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল। ওদের কারও বয়স এক বছর তো কারও দুই বছর। নিজের মা না থাকলেও হাসপাতালের নার্স ও অ্যাটেডেন্টদের আদর যত্নেই ওরা এত দিন বেড়ে উঠেছে। হাসপাতালের নিয়নেটাল রিহ্যাবেলিস্টেশন সেন্টারই ছিল ওদের ঘর। হাসপাতাল কর্মীদের সেবায় এতদিন বড় হয়েছে ওরা। স্বাভাবিক ভাবেই হাসপাতালের সবার কাছেই ওরা হয়ে উঠেছিল আপনজন। কিন্তু আজ হাসপাতালের সেই সংসার ছেড়ে ওই পাঁচ শিশু চলে গেল রায়গঞ্জ স্পেশালাইজেশন অ্যাডপশন এজেন্সির কাছে। আর তাতে বিষাদের সুর দেখা গেল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। যে শিশুদের কোলেপিঠে মানুষ করেছেন হাসপাতালের নার্স ও আয়ারা, এদিন সেই শিশুরাই তাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি কেউই। ওই পাঁচ শিশুদের বিদায় দিতে একেবারে হাসপাতালের গেট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন হাসপাতালের নার্সরা। যতদূর চোখ গেছে ততদূর নার্সরা চোখের জলে হাত নেড়ে বিদায় জানালেন তাদের প্রিয় শিশুদের।

আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলা হাসপাতালে পরিচয়বিহীন প্রায় ৮ জন শিশু আছে। এর মধ্যে তিন জন শিশু নিয়নেটাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে (এনআরসি) বড় হচ্ছে। বাকিরা আছে এসএনসিইউতে। এই ৮ জন শিশুকেই হাসপাতালের নার্স, অ্যাটেডেন্টরা ছোট থেকেই যত্ন নিয়ে বড় করে তুলছেন। তাদের আদর যত্নেই হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর শিশুরাও বড় হতে থাকে এতদিন। কিন্তু শিশুদের বড় হতে যে পরিবেশের দরকার, তার থেকে শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছিল বলে খোদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে। তাই হাসপাতালে বড় হতে থাকা শিশুদের যাতে অন্য পরিবেশে নিয়ে যাওয়া হয়, তার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চিঠিও করেন তারা। বিষয়টি জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকেও জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, এর পরেই ওই বাচ্চাদের স্পেশ্যাল অ্যাডপশন এজেন্সির কাছে তুলে দিতে উদ্যোগ নেয় সিডব্লুসি।

এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, আমাদের হাতপাতালে বিভিন্ন বয়দের মোট ১০টি শিশুকে বড় করা হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালের পরিবেশ তাদের বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই তাদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা আমরা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে জানাই। তারা হাসপাতাল থেকে শিশু নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানায়। দুই ধাপে মোট ৭টি শিশুকে তারা নিয়ে যাবে বলে জানায়। ইতিমধ্যে বুধবার দুই শিশুকে তারা নিয়ে যায়। আজ আরও বাকি পাঁচ শিশুকে রায়গঞ্জ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সুপার জানিয়েছেন।

এদিকে বুধবার হাসপাতাল থেকে পাঁচ শিশুকে চোখের জলে বিদায় জানিয়েছেন নার্স ও অ্যাটেন্ডেন্টরা। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের চোখে এখন বিষাদের সুর। জেলা হাসপাতালের এসএনসিইউ-এর অ্যাটেন্ডেন্ট দীপালি রায় বর্মন বলেন, ওই শিশুদের জন্ম না দিলেও আমরা নিজের শিশুর মতো করে মানুষ করেছি। তাই তাদের প্রতি একটি আলাদা মায়া-মমতা তৈরি হয়েছে। নিজেদের ব্যস্ততার মাঝেও রোজ ওদের সঙ্গে সময় কাটাতাম। আজ ওরা হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ায় খুব খারাপ লাগছে। মনে হচ্ছে নিজেরই সন্তান যেন অন্য কোথাও চলে গেল। তাই ওদের বিদায় জানাতে গিয়ে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here