news national

মহানগর ওয়েবডেস্ক: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের আগ্রাসন নীতির জেরে উত্তপ্ত ভারত-চিন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। একাধিকবার দুই দেশের শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে বৈঠক করা হয়েছে লাল ফৌজের পিছু হটবার পর্ব জারি রাখতে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই রবিবার দুই দেশের সেনাবাহিনীর শেষ বৈঠক থেকে যে তথ্য প্রকাশ্যে এলো তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। চিনা সেনার পিছু হটা তো দূরে থাক পাল্টা ভারতীয় সেনাকে একাধিক জায়গা থেকে পিছু হটে যাওয়ার নির্দেশ দিল চিনের সেনাবাহিনী। এই ঘটনায় দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সর্ব ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে খবর, চিনের আগ্রাসন নীতির মাঝেই হিংসাত্মক কোনও রকম ঘটনা এড়াতে দুই দেশের তরফে উচ্চস্তরের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গত রবিবার এই নিয়ে পঞ্চম দফায় দুই দেশের লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদাধিকারী অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যদিও সেই আলোচনা পুরোপুরি ব্যর্থ বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, উল্টে ভারতকেই নিজের এলাকা থেকে পিছু হটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে চিন। প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকা থেকে ভারতীয় সেনাকে পিছু হটতে বলেছে লাল ফৌজ। যদিও চিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারত। এর পাশাপাশি ফিঙ্গার ৪ এলাকা থেকে ভারতকে পিছু হটতে বলেছে চিন। উল্লেখ্য, ফিঙ্গার ৮ এলাকা পর্যন্ত ভারতীয় সেনা পেট্রোলিং করে। এবং ওই এলাকাকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা হিসেবে মানে ভারত সরকার। তবে সম্প্রতি ফিঙ্গার ৪ এলাকা পর্যন্ত ঢুকে পড়েছিল চিনা সেনা। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর ফিঙ্গার ৫ এলাকা পর্যন্ত পিছু হটে চিন। এবং সংবাদমাধ্যম সূত্র এ খবর বর্তমানে ফিঙ্গার ফোর্ড এলাকায় ভারতীয় সেনাকে পেট্রোলিং করতে দিচ্ছে না চিন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে এক তথ্য প্রকাশ করা হয়, যেখানে স্পষ্ট জানানো হয় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে চীনের সেনাবাহিনী। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত মে মাস থেকে চিনের আগ্রাসন নীতির বাড়বাড়ন্ত দেখা গিয়েছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার গালোয়ান, প্যাংগং লেক, গোগরা, হট স্প্রিংয়ের মত এলাকাগুলিতে। ১৭ ও ১৮ মে নাগাদ গালোয়ান, প্যাংগং লেক, গোগরা, হট স্প্রিংয়ের মতো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় অবস্থিত একাধিক এলাকায় অনুপ্রবেশ করে চিনের সেনা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৫ মের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের আগ্রাসন নীতি ভারতের নজরে এসেছিল। এবং ৫ ও ৬ মে’তে লাল ফৌজের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়েছিল ভারতের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার স্পষ্টভাবে এই তথ্য প্রকাশ করার পর কিছুক্ষণের মধ্যে ফের তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ওয়েবসাইট থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here