Home Featured স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ল গালোয়ান নদীর তীরে চিনের সেনাবাহিনীর শিবির

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ল গালোয়ান নদীর তীরে চিনের সেনাবাহিনীর শিবির

0
স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ল গালোয়ান নদীর তীরে চিনের সেনাবাহিনীর শিবির
Parul

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভারত–চিন সামরিক পর্যায়ে বৈঠক শুরু হওয়ার একদিন পরই সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, গালোয়ান উপত্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার দু’দিকেই চিনের সৈন্য শিবিরের অস্তিত্ব রয়েছে যা ১৫ জুনের আগে ছিল না বলে পর্যবেক্ষকদের দাবি।

১৫ জুন যে ১৪ নম্বর নজরদারি পয়েন্টে ভারত ও চিনের সৈন্যেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, সেখানে ২২ মে পিএলএ–র মাত্র একটি শিবির ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে সেখানে রীতিমত চিনা সৈন্য ঘাঁটি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও ভারতের অন্যতম মানচিত্রকার রমেশ পান্ধী স্যাটেলাইট চিত্র দেখে এনডিটিভি–র প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, ”ছবি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ওখানে কোনও ভারী যান চলাচল করছে যা প্রমাণ করে যে ওইখানে সৈন্য মোতায়েন করে থেকে যাওয়ার জন্যই এটা করা হচ্ছে।”

যে সময়ে ভারত–চিনের মধ্যে সামরিক স্তরে উত্তেজনা প্রশমন ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে দু’পক্ষই সরে আসার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই স্যাটেলাইট চিত্রটি চিনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্যাটিলাইটের অত্যন্ত জোরালো ক্যামেরায় এই প্রথম প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে এক কিমি দূরে গালোয়ান নদীর ওপর নির্মিত কালভার্টের চিত্র ধরা পড়ল। যেখানে বুলডজার দিয়ে পাথর ফেলে গালোয়ান নদীর গতিপথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, নতুন ছবিতে দেখা যাচ্ছে কালভার্টের নীচ দিয়ে নদীর স্রোত আবার বইতে শুরু করেছে।

ছবিতে আরও দেখা যাচ্ছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর রাস্তাটিকে চিনের দিকে চওড়া করা হচ্ছে। ভারতীয় সড়ক নির্মাণের যদিও কোনও রাস্তা তৈরির উপগ্রহ চিত্র দেখা যায়নি। যদিও নিয়ন্ত্রণ রেখের ৬ কিমি দূরে ভারত ইতিমধ্যেই একটি হাইওয়ে তৈরির কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছে যা দক্ষিণে দারবুক থেকে উত্তরে দৌলত বেগ ওল্ডি পর্যন্ত বিস্তৃত। শোনা যায় এই হাইওয়েটি চিনের কাছে অত্যন্ত মাথা ব্যথার কারণ যেহেতু এই হাইওয়ের ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেনা ও রসদ খুব দ্রুত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

চিনের যাবতীয় বিরোধিতা সত্ত্বেও যে ভারত পূর্ব লাদাখের কোনও পরিকাঠামোগত নির্মাণ বন্ধ করবে না সেকথা স্পষ্ট করে বিদেশমন্ত্রক থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার লেফট্যানেন্ট জেনারেল স্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দুপক্ষই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সৈন্য অপসারণের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে হলেও বাস্তবে কবে সৈন্য অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে সেটি আপাতত স্পষ্ট নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here