মহানগর ওয়েবডেস্ক: কথা ছিল, গালোয়ান ঘাঁটি থেকে দু’পক্ষই সেনা প্রত্যাহার করবে। ভারতও জানিয়েছিল, চিন সেনা প্রত্যাহার করেছে নিশ্চিত হলেই আমরাও পিছিয়ে আসব। কথা মতো গালোয়ান নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে নিজেদের তাঁবু গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে চিনা সেনা। এমনটাই ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে।

সূত্রের খবর, চিনা সেনাবাহিনী গালোয়ান নদীর উপত্যকা সহ লাদাখের কমপক্ষে তিনটি জায়গা থেকে এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিজেদের সেনাকে পিছিয়ে নিয়েছে। এই তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় সেনারাও ক্রমশ পিছু হটেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বাফার জোনও তৈরি করা হয়েছে বলে খবর। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা কমানোর এটাই প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, এর পরবর্তী সিদ্ধান্ত শীর্ষ সেনা কর্তাদের বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া হবে।

তবে একটা বিষয় পরিস্কার, গালোয়ানে ভারতীয় এলাকায় আর ঘাপটি মেরে বসে নেই চিন সেনা। নদীর ধারে যে বেআইনিভাবে তারা তাঁবু বানিয়ে বসেছিল সেগুলিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু গালোয়ান নয়, প্যাংগং লেকের ফোর ফিঙ্গার এলাকা থেকেও চিন পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে বলেছে ইঙ্গিত মিলেছে ইতিমধ্যেই।

লাদাখ সীমান্তে ভারত এবং চিনের সংঘর্ষের কারণে উত্তেজনা তৈরি হয় গোটা দেশে। ২০ জন জওয়ান শহিদ হওয়ার ঘটনায় চিনের বিরুদ্ধে কার্যত বদলা নেওয়ার আওয়াজ ওঠে দেশে। একাধিকবার বৈঠক আবার সত্ত্বেও সেই উত্তেজনা কমেনি। এরপর চিনকে হাতে না মেরে ভাতে মারা পদক্ষেপ নিয়ে ৫৯ চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের এই পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন হয় বেজিং প্রশাসন। পরবর্তী ক্ষেত্রে কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকা লাদাখে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই কার্যত খেলা ঘুরে যায়। নরম মনোভাব দেখাতে শুরু করে চিন। গতকাল রাতে প্রায় দু ঘণ্টা ভিডিও কলে চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তারপরই উভয় পক্ষ উত্তেজনা কমাতে সহমত হয় এবং পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here