মহানগর ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে ইন্দো-চিন সীমান্তে মুখোমুখি দুই দেশের সেনা। উত্তেজনা কমাতে ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ৬ জুন আমার দুই সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বৈঠকে বসবেন। এরই মাঝে পূর্ব লাদাখকে গালোয়ান নালা এলাকায় কয়েকশো মিটার পিছু হটেছে চিনের ফৌজ। সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘গালোয়ান নালা এলাকায় কিছু স্থান থেকে চিনের সেনাবাহিনী বেশ কয়েকশো মিটার পিছিয়ে গিয়েছে।’

কূটনৈতিক তরফে দুই দেশই সীমান্তে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছে। একই ভাবে উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনায় বসেছেন দুই দেশের উচ্চপদস্থ সেনা অধিকর্তারাও। আগামী ৬ জুন ফের একবার এরকম বৈঠকে বসবেন দুই দেশের সেনা আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, দুই দেশের সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওই বৈঠকে বসবেন।

ইতিমধ্যেই এই বৈঠকের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এটা সত্যি যে সীমান্তে চিনা সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা বলছে সেটা তাদের এলাকা। আমরা বলছি সেটা আমাদের এলাকা। সেই নিয়েই দুই পক্ষের মতানৈক্য। সেখানে এখন বেশ বড় সংখ্যায় চিনা সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আমরাও যা যা করার করছি।’

অন্যদিকে, সরকারি সূত্রে খবর, সীমান্তে স্রেফ কিছু জায়গা থেকেই ‘ভদ্রতার খাতিরে’ অতিরিক্ত সেনা প্রত্যাহার করেছে দুই দেশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গোটা সীমান্তেই শান্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও, গালোয়ান নালা অঞ্চলে দুই দেশেরই কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেখানে চিন ইতিমধ্যেই একটি ঘাঁটি নির্মাণ করেছে, ভারতও পাল্টা ঘাঁটি নির্মাণ করছে।

প্রায় ২৭ দিন ধরে লাইন অফ একচুয়াল কন্ট্রোলে মুখোমুখি দুই দেশের সেনা। সীমান্তে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখন কূটনৈতিক স্তরে দুই দেশই কিন্তু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এরই মাঝে সুর নরম করে চিন ‌। জানানো হয়, ভারত এবং চিন সীমান্তের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। খুব শীঘ্রই সমাধান সত্র বের করা হবে।

চিনের তরফে এই দাবি করেন বিদেশ মুখপাত্র। তিনি বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণে। দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা সমাধান করবে। উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত এবং চিনের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব ভারত এবং চিন দুই রাষ্ট্রই ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে, দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা যে ফলপ্রসূ হচ্ছে তা কিছু অঞ্চল থেকে বাড়তি সেনা প্রত্যাহার এবং এই গালোয়ান নালা অঞ্চলে চিনা সেনার পিছিয়ে যাওয়া থেকেই স্পষ্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here