kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুরুলিয়া: দেশের প্রধানমন্ত্রী হামেশাই বলে থাকেন, ‘আমিও চৌকিদার’। তিনি নাকি দেশকে রক্ষা করছেন, দেশের দেখভাল করছেন। তাঁর এই চৌকিদারের শ্লোগান এখন বিজেপির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছে। দেশ জুড়ে বিজেপির প্রার্থীরা নিজেদের সেই সেই এলাকার চৌকিদার বলে প্রচার করছেন। অথচ দেশের গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা আসল চৌকিদারদের নিয়ে কোন ভাবনাচিন্তাই নেই দেশের শাসকদের। এই রকম অবস্থায় দিদির বাংলায় এবার চাকরির দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করল বেশ কয়েকজন চৌকিদার থুড়ি সিকিউরিটি গার্ড। মোদীর বিজেপি তাদের পাশে না দাঁড়ালেও দিদির তৃণমূল কিন্তু তাদের প্পাশে দাঁড়িয়েছে।

২০০৬ সালে পুরুলিয়া-রাঁচি রোডের উপর একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা চালু হয়। সেখানে ৭জন স্থানীয় যুবককে সিকিউরিটির কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল। একটি বেসরকারি সংস্থার হাত ধরে ২০১৪সালে অন্য একটি সংস্থা এই ব্যাঙ্কের সিকিউরিটি এজেন্সির দায়িত্ব নেয়। সংস্থা পরিবর্তন হলেও কর্মীদের চাকরির কোন সমস্যা হয়নি। গত ২৫শে মার্চ এই চৌকিদাররা জানতে পারেন তাদের চাকরি অনিশ্চিত। কারণ নুতন যে সংস্থা এই ব্যাঙ্কের সিকিউরিটির দায়িত্ব পেয়েছে তারা এই পুরনো কর্মীদের রাখতে রাজি নয়। ফলে নিজেদের চাকরি আর থাকছে না সেটা জানতে ও বুঝতে পেরে এবার রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছেন ওই ৭ যুবক।

 

এমত অবস্থায় চৌকিদারের বড়াই করে বেড়ানো বিজেপিকে পাশে পায়নি ওই ৭যুবক। কিন্তু রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসিকে তারা পাশে পেয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছে। রাস্তায় বসা চৌকিদারদের দাবি তাদের এই কাজে নিযুক্ত করতে হবে আর আন্দোলনের জেরে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ্কের দরজা খুলতে পারেনি। যার জেরে সমস্যায় পড়েছেন গ্রাহকরাও। যদিও তারা সব দেখে শুনে সমস্যা হলেও এই শ্রমিকদের পাশেই থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি শান্তিরাম মাহাত জানান, ‘বিষয়টি শুনেছি। কয়েকজন যুবক ওই ব্যাঙ্কের সামনে আন্দোলনে বসেছেন। বিষয়টি কিভাবে আলোচনা করে মেটানো যায় দেখছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here