football news

 

ইস্টবেঙ্গল- ১ (কোলাডো পেনাল্টি)      চার্চিল ব্রাদার্স- ১ (প্লাজা)

নিজস্ব প্রতিবেদন: সুযোগ ছিল তিনে উঠে আসার, ভাগ্যও ভাল থাকলে দুইয়ে। কিন্তু তা আর হল কই। হারতে হারতে কোনও রকমে ড্র করল শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গল। যদিও পরিসংখ্যানের বিচারে এক পয়েন্ট পাওয়ার মতো মোটেই খেলেনি কিন্তু লাল হলুদ। গোটা দ্বিতীয়ার্ধে যে ভাবে ডমিনেটিং ফুটবল খেললেন মেরা, কোলাডোরা, তাতে তিন পয়েন্ট খুব সহজেই আসে। কিন্তু ওই গোল মিসের বন্যা। যেভাবে, কোলাডো, মার্কোস বা ক্রোমারা গোল মিস করলেন, তাতে তিন পয়েন্ট দূর, এক পয়েন্টও আশার কথা নয়। কিন্তু ওই পেনাল্টিটাই বাঁচিয়ে দিল লাল হলুদকে। না হলে ভাবা যায়, শতবর্ষে এক পয়েন্ট পেয়ে গ্যালারিতে লাফালাফি করতে হচ্ছে সমর্থকদের!

এদিন আই লিগে প্রথম বার যুবভারতীতে হোম ম্যাচ (বড় ম্যাচ মোহনবাগানের হোম ম্যাচ ছিল) খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। দলে ম্যাচে এইদিন চারটি বদল করেছিলেন মারিও। কিপার মাউইয়া, কাশিম, ক্রোমা ও ডিডিকার বদলে তিনি নামান মিরশাদ, ভিক্টর, ব্র্যান্ডন ও রোহলুপুইয়াকে। কার্ড সমস্যায় এই ম্যাচে ছিলেন না কাশিম। হাতে বিকল্প বিদেশী না থাকা সত্ত্বেও ক্রোমাকে প্রথম একাদশে নামাননি মারিও। হয়তো দুইজনের শীতল সম্পর্কের কারণেই!

ম্যাচের শুরুতেই মাত্র ৭ মিনিটে একটি গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন মার্কোস। কিন্তু তাঁর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যদিও এর মিনিট তিনেক পরেই লাল হলুদ জালে বল জড়ান উইলিস প্লাজা। প্রথম লেগের খেলায় ইস্টবেঙ্গলের এই প্রাক্তনীর গোলেই হারতে হয়েছিল লাল-হলুদকে। এদিনও সেই প্লাজাই দুরন্ত গোল করলেন, চার-পাঁচজন ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড়কে নাচিয়ে। শুরুতেই গোল খাওয়ার ফলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় মারিওর দল। ফলে দাপিয়ে খেলতে শুরু করে চার্চিল। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে খুব একটা সময় লাগেনি ইস্টবেঙ্গলের। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে আক্রমণে উঠতে শুরু করেন ভিক্টর, হুয়ান, কোলাডোরা। ফলে বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি হয়। ৩৫ মিনিটে কোলাডোর সাজিয়ে দেওয়া বলে মেরা সুন্দর শট নিলেও তা সাইড নেটে লাগে। পাল্টা আক্রমণে বেশ কিছু আক্রমণ গড়ে চার্চিলও। প্লাজাকে থামাতে গিয়ে বেশ কয়েকবার ভুল করেন আশীর। ৪৩ মিনিটে তাঁর খানিকটা ভুলেই দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলছিলেন মাপুইয়া। কিন্তু মিরশাদ কোনও রকমে তা সামলান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধ করতে মরীয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। নিজেদের মধ্যে দেওয়া নেওয়া করে বারবার আক্রমণে ওঠে কলকাতার অন্যতম প্রধান। ৫৪ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কোলাডো। সতীর্থ হুয়ান মেরার সাজিয়ে দেওয়া বল ওয়ান টু ওয়ানে পেয়েও চার্চিল কিপারের হাতে মারেন কোলাডো। এর কিছু পরেই আবার একটি সুযোগ নষ্ট করেন সামাদ। এরই মাঝে মারিও আশীর ও রোহলুপুইয়াকে বসিয়ে নামিয়ে দেন গুরজিন্দর ও ক্রোমাকে। এদিন নেমেই হিরো হয়ে যেতে পারতেন কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৬৯ মিনিটে একটি গোলও করেন। কিন্তু তাঁর দুর্ভাগ্য যে গোলটি অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। যদিও এতে দমে যায়নি লাল হলুদ। ৭৫ মিনিটে মেহতাবের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে সবচেয়ে সহজ সুযোগ ৮৫ মিনিটে পান ক্রোমা। হুয়ান মেরার ডিফেন্স চেরা বল যখন তিনি বক্সের ভেতর ধরলেন তখন তাঁর সামনে শুধু বিপক্ষ কিপার। কিন্তু তাও তিনি বল বাইরে মারলেন। যখন মনে হচ্ছে অজস্র গোল মিস করে চার্চিলকে তিন পয়েন্ট ‘উপহার’ দিয়ে আসতে চলেছে লাল হলুদ, তখন ক্রোমাকে বক্সের ভেতর ফাউল করলেন বিপক্ষ ডিফেন্ডার। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি দেন রেফারি। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান কোলাডো (তাও দ্বিতীয়বারের চেষ্টায়)। এই ড্রয়ের ফলে ১৪ ম্যাচ খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চারেই রইল লাল-হলুদ।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: মিরশাদ, আশীর, আভাস, সামাদ, মেহতাব, রহলুপুইয়া, ব্র্যান্ডন, ভিক্টর, হুয়ান, মার্কোস ও কোলাডো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here