ডেস্ক: এক ফুটবলারের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল ৷ মৃতের নাম রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়(২৯)। ওরফে কাজু। শুক্রবার রাত ১০ টা নাগাদ বালিগঞ্জ এবং লেক গার্ডেন্স স্টেশনের মধ্যে রেললাইনের ধার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে খবর, টিভিতে ব্রাজিলের খেলা দেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরেন রঞ্জিত। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ি না ফেরায় তাঁর বাড়ির লোকজন খোঁজখবর করতে শুরু করে। এরপরে রেললাইন থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ক্রমশ তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।

একসময়ে রঞ্জিত পোর্ট ট্রাস্টের হয়ে খেলেছিলেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাকে বিদেশে ট্রেনিং এর জন্যও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেইভাবে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ফুটবলার হিসেবে মেলে ধরতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই সংসারের হাল ধরতে তাকে ১৪ বছর আগেই অটো চালাতে শুরু করতে হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ফুটবলই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। কিন্তু অটো চালানোকে পেশা হিসাবে ধরে নেওয়ার পর থেকেই সময়টা কেমন বদলে যায় কাজুর জন্য। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানসিকভাবে বেশ কিছুদিন ধরেই ভেঙে পড়েছিলেন কাজু। এমনকি তিনি যে আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন কাজু।

ফুটবল খেলার স্বপ্ন চোখে থাকলেও সংসারের আর্থিক চাপে তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি রঞ্জিত ওরফে কাজুর। স্থানীয় এলাকায় সবাই কাজু বলেই চিনতেন রঞ্জিতকে। ১০ বছরের এক ছেলে এবং ছোট আরেক মেয়েকে নিয়ে আর্থিক অনটন ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গি। কিন্ত শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজু ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় কয়েক হাজার টাকার দেনা ছিল কাজুর মাথায়। কেবল অটো চালিয়ে তা পুষিয়ে উঠছে পারছিলেন না তিনি। একই সঙ্গে স্ত্রী টুম্পার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কও খুব একটা সুখকর ছিল না কাজুর। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়ার কারণে স্ত্রী’র কাছে কটুক্তির শিকার হয়েও কি এই পদক্ষেপ? এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টুম্পার সঙ্গে বনিবনার অভাব হচ্ছিল এমনটাও জানা যায় ইতিউতি স্থানীয়দের মুখে।

কিন্তু শুক্রবার ব্রাজিলের খেলা দেখার পর এমন কী ঘটল যে রেললাইনে জীবন দিলেন কাজু? প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হলেও পরিবার সে কথা স্বীকার করতে নারাজ। যদিও মৃত্যুর আগেই তিনি যে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন এ কথা মেসেজ করে জানিয়েছিলেন এক বন্ধুকে। কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে বেরনোর পর কয়েকজন তাঁর খোঁজ করতে আসে। পুলিশের অনুমান, সম্ভবত দেনা সংক্রান্ত কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতেই এসেছিলেন তারা। কিন্তু তার আগেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কাজু। এবং তারপরই রাত ১০টায় মৃতদের উদ্ধার হয় তাঁর। সেই কারণেই আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে নারাজ কাজুর পরিবার।