ডেস্ক: তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে কৈখালি মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ার হত্যাকাণ্ড৷ নিহত শম্পা দাসের স্বামী সুপ্রতীম দাসকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ এবার এই খুনের সঙ্গে জড়িত দুই পেশাদার খুনিকেও জালে তুললো পুলিশ৷ ধৃত দুই সুপারি কিলার হল নিরাজ সাউ ও হাফিজুল মোল্লা। হাফিজুল ও নিরাজকে মাইকেলনগর থেকে গ্রেফতার করে তদন্তকারীরা৷ পুলিশি জেরায় সুপ্রতীম স্বীকার করে নিয়েছে, স্ত্রীকে খুন করার জন্য দুই সুপারি কিলারের সঙ্গে ১ লক্ষ টাকার চুক্তি করেছিল সে। অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ৬০ হাজার টাকা৷ এবং অপারেশন শেষে আরও ৪০ হাজার টাকা৷

শম্পা দাস হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে পুলিশের জেরায়৷ গত ৬ মাস ধরে শম্পা দাসকে খুনের পরিকল্পনা করে আসছিল তাঁর স্বামী৷ শম্পার স্বামীকে এ ব্যাপারে সমস্তরকম সহযোগিতা করছিল রসিদ নামে এক ব্যক্তি। শম্পাদের বাড়িতে রসিদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। অসুস্থ সুপ্রতীমের ফিজিও থ্যারাপিস্ট ছিল এই রসিদ৷ সুপ্রতীমকে দুই পেশাদার খুনি হাফিজুল ও নিরাজের সন্ধান দিয়েছিল এই রসিদ৷ এরপর সবাই মিলে খুনের ছক কষে৷

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? পুলিশি জেরায় সুপ্রতীম জানিয়েছে, ঘটনার দিন শম্পাকে বাইরে ছিল। তাদের সাড়ে তিন বছরের ছেলেকেও বাইরে খেলতে পাঠিয়ে দেয় সুপ্রতীম। মা তরমুজ কেনার নাম করে বাইরে চলে যায়৷ এরপর দুই সুপারি কিলার হাফিজুল ও নিরাজকে বাড়িতে শাবল হাতে লুকিয়ে রাখে সুপ্রতীম। বাড়ির দরজার ছিটকিনি সোজা করে রাখেন। শম্পা দরজায় ধাক্কা দিতেই খুলে যায় ছিটকিনি। ঘরে পা দিতেই পিছন থেকে হামলা করে খুনিরা। শম্পার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সুপ্রতীমকেও আঘাত করে খুনিরা৷ যাতে কারও কোনও সন্দেহ না হয়৷ তাকে চেয়ারে বেঁধে বাড়ির পিছন থেকে চম্পট দেয় দুই খুনি। শম্পা দাস হত্যাকাণ্ডে এই পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here