ডেস্ক: একটা সময়ে তাঁদের দু’জনের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল সাজানো একটি বাগান৷ প্রায় দু’দশক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাগানের সংসার সামলেছেন ওঁরা ৷ অনেক চড়াই-উতরাই, ঘাত-প্রতিঘাতের ,উত্থান-পতনের মধ্যেও একে অপরের হাত ছেড়ে যাননি৷ কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন! ওঁদের দু’জনের মধ্যে এখন কার্যত সাপে-নেউলে সম্পর্ক৷ এক সময়কার হরিহর আত্মা টুটু বসু এবং অঞ্জন মিত্রের মধ্যে এখন কার্যত সাপে-নেউলে সম্পর্ক৷ মোহনবাগান ক্লাবের দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শনিবারের বারবেলায় হয়ে গেল একপ্রস্থ নাটক৷ অবশ্য এক্ষেত্রে নাটক না বলে ধুন্ধুমার শব্দটি বেশি প্রাসঙ্গিক বলেই মনে হয়৷

এদিন ছিল মোহনবাগান ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা৷ কিন্তু এই সভাকে কেন্দ্র করে গঙ্গাপাড়ের শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের লন হয়ে উঠেছে রণক্ষেত্র৷ সভা শুরু হওয়ার আগেই টুটু বসু VS অঞ্জন মিত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়৷ মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে সদস্য-সমর্থকদের মধ্যে৷ ধ্বস্তাধ্বস্তি থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায় গঠন৷ সভামঞ্চে তখন হাজির ছিলেন টুটু বসু, সৃঞ্জয় বসু থেকে শুরু করে অঞ্জন মিত্র-সোহিনী চৌবে মিত্ররা৷ একটা সময়ে উত্তেজনার পারদ এতটাই বেড়ে যায় যে সচিব অঞ্জন মিত্রের জামাই তথা প্রাক্তন ফুটবলার কল্যান চৌবেকে ধাক্কা মেরে মঞ্চ থেকে ফেলে দেওয়া হয়৷ যা দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন অঞ্জন মিত্র৷

এমন গোলমাল দেখে সভা স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেন অঞ্জন মিত্র। অন্যদিকে, সভা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে জোরাল সওয়াল করেন টুটু বসু। যা নিয়ে দফায় দফায় দুই গোষ্ঠী হাতাহাতি জড়িয়ে পড়ে। টুটু বসুকে সভাপতি হিসাবে মানতে রাজি ছিল না অঞ্জন মিত্র গোষ্ঠী৷ তাই সভার শুরুতে টুটু বসুর নাম সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেননি তিনি৷ নতুন ক্লাব সভাপতি আনতে নির্বাচন করতে চাইছেন অঞ্জন মিত্র।

কিন্তু ছাড়ার পাত্র নন টুটু বসুও৷ তিনি নিজেকে সভাপতি হিসাবে দাবি করছেন। অথচ ২০১৭ সালের ১৩ জুন সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান টুটু বসু। সচিব অঞ্জন মিত্র তখন সেই পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে জানিয়ে ছিলেন। এখন আবার নতুন কমিটি গঠনের আগে পর্যন্ত সভাপতি পদে বহাল থাকতে চান তিনি৷ তাঁর পক্ষ নিয়ে মাইকে চিৎকার করতে থাকেন সহ-সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া সৃঞ্জয় বসু৷ সেই অনুযায়ী বার্ষিক সাধারণ সভাও ডাকেন টুটু বসু। মঞ্চে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যজিত রায় ছাড়াও আরও অনেকে৷ তাঁরা ক্লাব সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্ত তাতেও কমেনি উত্তজনা৷

এবার মোহনবাগানের বার্ষিক সাধারণ সভা যে উত্তপ্ত হতে পারে তা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল৷ তাই সকাল থেকেই ক্লাব তাঁবুতে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা৷ তা সত্ত্বেও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা-উত্তজনা কমানো যায়নি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here