সভাপতির পদ নিয়ে মালদায় প্রকাশ্যে কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল

0
367

নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা: মালদায় ক্রমশ কোণঠাসা হয়েছে কংগ্রেস৷ এবার সেই দলেরই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব  প্রকাশ্যে এল৷ জেলা কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসির সভাপতি পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন প্রাক্তন এবং বর্তমান সভাপতি। যে কারণে সমাধান খুঁজতে দু’পক্ষই দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য তথা জাতীয় নেতৃত্বের। প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের অভিযোগ সরব হয়েছেন বর্তমান সভাপতি লক্ষী গুহ।

মালদা জেলা কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসির এক সময়ের অবিসংবাদিত নেতা এবং সংগঠনের সভাপতি ছিলেন কংগ্রেস নেতা বিশ্বনাথ গুহ। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি খুন হয়ে যান৷ এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর এই সভাপতির পদে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। দীর্ঘ দশ বছর এ পদে থাকার পর গত আট মাস ধরে জেলা আইএনটিইউসি সভাপতি হয়েছেন প্রয়াত বিশ্বনাথ গুহর দ্বিতীয় স্ত্রী লক্ষ্মী গুহ। কিন্তু শনিবার হঠাৎই রাজ্য আইএনটিইউসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক অলোক চক্রবর্তী নাকি লক্ষী গুহকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে আবার কাজী নজরুল ইসলামকে সভাপতি পদে বসিয়েছেন। এই নির্দেশ না মানা নিয়েই লক্ষীদেবী এবং কাজী নজরুল ইসলামের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

রবিবার সকালে শহরের রথবারিতে জেলা কার্যালয়ে লক্ষীদেবী সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, রাজ্য এবং জাতীয় আইএনটিইউসির নির্দেশে তিনি সভাপতি পদে আছেন। অলোক চক্রবর্তীর কোনও ক্ষমতায় নেই তাকে এই পথ থেকে ছাঁটাই করে এবং কাজী নজরুল ইসলামকে পুনর্নিয়োগ করেন। এ ব্যাপারে তিনি ইতিমধ্যেই জেলা রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাবেন প্রয়োজন হলে আদালতে যাবেন। লক্ষীদেবী আরও অভিযোগ করে বলেন, যে শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, কাজী নজরুল ইসলাম যে দশ বছর এই পদে ছিলেন সেই দশ বছরে তিনি সংগঠনের জন্য কোনও কাজই করেননি, উপরন্তু লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা আত্মসাৎ করেছেন । তিনি এ পর্যন্ত সংগঠনের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

আমি এসে সংগঠনের স্বচ্ছতা বজায় রেখেছি৷ যদিও লক্ষীদেবীর এই অভিযোগ খণ্ডন করেছেন প্রাক্তন সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, টাকা তছরুপের অভিযোগ একদম ভিত্তিহীন। গত আট মাস ধরে লক্ষীদেবী এই পদে আছে আমি কিভাবে টাকা তছরুপ করব। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশেই আমি শনিবার থেকে জেলার সভাপতি হয়েছি। এর থেকে বেশি কিছু বলব না। তবে কাজী নজরুল ইসলামের এই দাবি নস্যাৎ করেছে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোস্তাক আলম বলেন, লক্ষ্মী গুহ জেলা আইএনটিইউসির সভাপতি ছিলেন এবং তিনি এখনও আছেন৷ অলোক চক্রবর্তীর কোন ক্ষমতাই নেই তাকে এই পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার৷ বিষয়টি নিয়ে আমরা দুজনের সঙ্গেই বসে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here