kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারুইপুর: ভোট গরমে তপ্ত ভাঙড়। শনিবার গভীর রাতে বামণঘাটা পঞ্চায়েতের হাটগাছা গ্রামে সিপিএম কর্মী সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অপরদিকে যুব এবং মাদার তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘর্ষে মাথা ফেটেছে যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির।

স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার রাতে ভাঙড়ের বামনঘাটা অঞ্চলের হাটগাছা গ্রামে সিপিএম কর্মী সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা গুলি ছোঁড়ে দুষ্কৃতী বাহিনী। এলাকার সিপিএম কর্মী বিপ্লব মন্ডল বলেন, ‘রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ পাঁচ-ছ জন দুষ্কৃতি এসে আমাদের কয়েকজনের বাড়ি লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি বোমা ছোঁড়ে, গুলি চালায়। বোমা-গুলি চালিয়ে ওরা ভোটের আগে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করতে চাইছে। শেষে এলাকার মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধে সবাই পালিয়ে যায়।’ জানা গিয়েছে রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। তারা বেশ কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধারও করে। যদিও বামনঘাটার তৃণমূল নেতা প্রদীপ মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোন গুলি বোমা পড়েনি। ভোটের আগে সিপিএম নাটক করে মানুষের সহানুভূতি পেতে চাইছে।‘

অন্যদিকে, বেওতা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চড়িশ্বর গ্রামে রবিবার সকালে যুব তৃণমূল বনাম মাদার তৃণমূলের গন্ডগোলের জেরে এলাকায় অশান্তি ছড়ায়। শনিবার ওই এলাকায় একটি সভাকে কেন্দ্র করে আরাবুল, ওহিদুল, নান্নুর সামনে দলের লোকেরা ব্যাপক চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি করে। তাতে বেশ কয়েকজনের মাথা ফাটে। সেই ঘটনায় যুব তৃণমূলের আরাবুল ইসলামের অনুগামীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন সকালে বেওতা ১ এর যুব সভাপতি কামিরুল ঘরামির বাড়িতে চড়াও হয় মাদার তৃণমূলের কর্মীরা। তার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এর পর কামিরুলকে রাস্তায় ধরে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আরাবুল অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় কামিরুলের মাথা ফাটে এবং দুটি হাত ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রক্তাক্ত কামিরুলকে উদ্ধার করে জিরানগাছা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে রাজারহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়।

যদিও এই ঘটনার জেরে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আরাবুল বলেন, ‘ওখানে একটা ঝামেলা হয়েছে। আমরা বসে মিটিয়ে দেব।’ যদিও এ বিষয়ে ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি কাশেফুল করুব খান আরাবুলের নাম না করে তিনি বলেন, ‘ব্যাওতা ১ নং অঞ্চলের যুব তৃণমূলের সভাপতি কামিরুল ঘরামির বাড়িতে হামলা সহ তাকে বেধড়ক মারধর করেছে দলের অপর গোষ্ঠির লোকজন। ওই গোষ্ঠীটা ভাঙড়ের সর্বত্রই ঝামেলা করে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি দলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে জানিয়েছি’

অন্যদিকে, এদিন আরাবুল ইসলামের হাত ধরে দক্ষিণ গাজিপুরে জনা পঞ্চাশ সিপিএম কর্মী সমর্থক তৃণমূলে যোগদান করেন। তাদের মধ্যে পোলেরহাট ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সিপিএম প্রধান আলি হোসেন মোল্লাও আছেন। এর পাশাপাশি ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জ অঞ্চলের বড়ালী, মরিচা বুথ থেকে জনা পঞ্চাশ সিপিএম কর্মী সমর্থক তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন। এ বিষয়ে কাইজার বলেন, ‘ওই অঞ্চলে কিছু সিপিএমের লোকজন পতাকা লাগাছিল। তাদের ডেকে দিদির উন্নয়নের কথা তুলে ধরতেই তারা আমাদের দলে যোগদান করেছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here