news bengal

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শুধু মুখে ‘আত্মনির্ভর হয়েছি’ বলা নয়, তা কাজে প্রমাণ করে একদিনে তিনটি নয়া প্রকল্প ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ানো হলো অ্যাড হক বোনাস। এর সঙ্গেই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়া হয় এদিন। তার নিরিখে ‘মাটির সৃষ্টি’ নামে নতুন গ্রামীণ প্রকল্প শুরুর ঘোষণা করা হয় এদিন। ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে, বুধবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে একসঙ্গে তিনটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নিয়ে এল সুখবর। বাড়লো অ্যাড হক বোনাস। বোনাসের উর্ধ্বসীমা ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হলো ৩৪ হাজার ২৫০ টাকা। অ্যাড হক বোনাস বেড়ে হলো ৪ হাজার ২০০ টাকা। এর সঙ্গে উৎসব অগ্রিম বেড়ে হলো ১০ হাজার টাকা। এতে বাড়তি ৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, দুর্যোগ আসবে যাবে কিন্তু উৎসব থেমে থাকবে না। তাই তিনি জানান, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে পিছুপা হবে না । ঘোষিত তিনটি প্রকল্প রাজ্যের সেই মানবিক মুখের প্রতিফলন বলেই দাবি করছে শাসক দল।  গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নতুন যে প্রকল্প শুরু হলো তার নাম ‘মাটির সৃষ্টি’। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প শুরু হবে ৫০ হাজার একর রুক্ষ জমিতে। এই কাজ হবে মাইক্রো প্ল্যানিং পদ্ধতিতে। গ্রামীণ এলাকায় ১০ লক্ষ বাড়ি হবে। ১৫% টাকা পাবে জেলা পরিষদ পঞ্চায়েত সমিতি। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য রয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্কের ৫ হাজার কোটি টাকা। সাড়ে ছয় হাজার একর জমিতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূমে, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুরে হবে এই নতুন প্রকল্প। ওই জমিতে মাছ চাষ, পশুপালন সহ একাধিক প্রকল্প শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নিয়ে গঠিত হবে সমবায় সমিতি।

মুখ্যমন্ত্রী কথায়, করোনাকে ভয় করলে চলবে না। করোনাকে জয় করেই বাংলা এগিয়ে যাবে। আর তার জন্য চাই গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করা। তার সঙ্গেই চলবে টেস্ট। তাই রাজ্যকে করোনা মুক্ত করতে নয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। লকডাউনের পরে প্রতিটি জেলায় সেন্টিনেল সার্ভে করা হবে। দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হিসেবে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ, এমনটাই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘ইতিমধ্যে চারটি গ্রিন জোন অরেঞ্জ জোনে পরিণত হয়েছে। কারণ বাইরে থেকে অনেক বেশি মানুষ রাজ্যে ফিরেছেন। অরেঞ্জ জোন গুলিকে গ্রিন জোনে ফেরানোই চ্যালেঞ্জ। তাই লকডাউনের পর এরপর প্রতিটি জেলায় এই সমীক্ষা করা হবে।’

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর অর্থনীতি আরো তলানিতে যেতে পারে। তবে আত্মনির্ভর হয়েছি কাজে প্রমাণ দিয়েছি। আগে থেকেই কাজে নিয়োজিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী। ৪৫ লাখ মাস্ক, ৭.৫ লাখ পিপিআই তৈরি হয়েছে। ১৩. ২ শ্রম দিবস তৈরি হয়েছে।… এক দিনে আমরা তিনটি নতুন জিনিস দিলাম। রাজ্যগুলি হলো দেশের অগ্রগতির স্তম্ভ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here