ডেস্ক: মরিচঝাঁপি, বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে অন্যতম একটি নাম! বাংলার রাজনীতিতে ‘অভিশপ্ত’একটি নামও বলা চলে৷ দীর্ঘ ৩৪ বছর এই বাংলার বুকে যে বাম জমানা অধিষ্ঠিত ছিল, বামেদের রাজত্বে যে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে, তার হাতেখড়ি ছিল এই মরিচঝাঁপি! বামেরা ক্ষমতায় আসার পরই মরিচঝাঁপি গণহত্যা দিয়ে তাদের শাসনকাল শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ৷ প্রায় চারদশক পর এবার নিহত উদ্বাস্তুদের স্মৃতিতে সুন্দরবনের দুর্গম সেই দ্বীপে এবার একটি স্মারক সৌধ গড়বে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাদল অধিবেশনে এমনটাই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কী ঘটেছিল মরিচঝাঁপিতে? নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই তা অজানা৷ ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মরিচঝাঁপিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি হিন্দু উদ্বাস্তুদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও সেইসঙ্গে হত্যালীলা চালানোর অভিযোগ ওঠে সদ্য নির্বাচিত বাম সরকারের বিরুদ্ধে। যাঁদের অধিকাংশই অন্ত্যজ শ্রেণির। অভিযোগ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নির্দেশেই প্রায় ৫ মাস ধরে ১০০০ নীরিহ মানুষকে হত্যা করা হয়। যেখানে নব নির্বাচিত বাম সরকারের খাঁকি উর্দিধারী পুলিশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ও সিপিএম ক্যাডারদের ঘেরাওয়ে অনাহারেও মৃত্যু হয় মানুষের৷ সিপিএমের সেই নারকীয় অত্যাচার থেকে বাদ যায়নি মহিলা-বৃদ্ধ-শিশুরাও৷

খুব স্বাভাবিকভাবেই মরিচঝাঁপি গণহত্যাকাণ্ড শুরু থেকেই বামফ্রন্ট তথা সিপিএমকে বারেবারে অস্বস্তিতে ফেলেছে৷ একের পর এক নির্বাচনে বামেদের বিরুদ্ধে মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছিল বিরোধীরা৷ কিন্তু এতবড় হত্যাকাণ্ডের পরেও পরের তিন দশকেও বামেদের গদিচ্যুত করতে পারেনি বিরোধীরা৷ হিন্দুত্বের তাস খেলতে ফের রাজনীতির ময়দানে মরিচঝাঁপিকে হাতিয়ার করার চেষ্টায় রয়েছে বিজেপি৷ কিন্তু মরিচঝাঁপিকে গেরুয়া শিবির প্রচারের আলোয় আনার আগেই, তা ‘হাইজ্যাক’ করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ঘোষণা করে দিলেন স্মৃতি সৌধ নির্মানের৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here