Home Latest News অধ্যাপক নিগ্রহে ধৃত ২ টিএমসিপি সদস্য, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়ে ফোন মুখ্যমন্ত্রীর

অধ্যাপক নিগ্রহে ধৃত ২ টিএমসিপি সদস্য, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়ে ফোন মুখ্যমন্ত্রীর

0
অধ্যাপক নিগ্রহে ধৃত ২ টিএমসিপি সদস্য, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়ে ফোন মুখ্যমন্ত্রীর
Parul

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীরামপুর: কোন্নগর নবগ্রাম হীরালাল পাল কলেজে ছাত্রীদের ‘তৃণমূল জিন্দাবাদ’, ‘মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় জিন্দাবাদ’ বলতে বাধ্য করা এবং অধ্যাপক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে মারধরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিগৃহীত অধ্যাপক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। আবার তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও বিধায়ক দিলীপ যাদব কলেজে গিয়ে অধ্যাপক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান। কলেজে কোনও অশোভন কাজ মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক নিগ্রহের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। আইন আইনের পথেই চলবে।’

অন্যদিকে, অধ্যাপককে নিগ্রহের ঘটনায় দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। ধৃত দু’জনই টিএমসিপি-র সদস্য বলে পরিচিত। পুলিশ জানায়, ধৃত দুই ছাত্রের নাম সন্দীপ পাল ও বিজয় সরকার। অধ্যাপকের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতেই এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দুজনকেই শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হওয়ায় বুধবার কলেজের ২৬ জন ছাত্রী একটি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে বসে ছবি তুলছিলেন। এটা জানতে পেরে কয়েকজন জুনিয়ার ছাত্রী তাদের বেঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলে। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের অভিযোগ, জুনিয়ার ছাত্রীরা তাদের ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। তারপর কলেজ অধ্যাপকদের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষ পরস্পরের প্রতি দুঃখপ্রকাশ করে এবং গণ্ডগোল মিটে যায়। কিন্তু তারপর কলেজের টিএমসিপি সমর্থকরা ওই স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের ‘তৃণমূল জিন্দাবাদ’, ‘মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে বলে। এমএ ছাত্রীরা সেটা বলতে অস্বীকার করলে টিএমসিপি সমর্থকরা তাঁদের মারধর করে কলেজের একটি ঘরে আটকে রাখে এবং কলেজর গেটেও তালা মেরে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর বিকাল পাঁচটা নাগাদ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সুব্রত চট্টোপাধ্যায় ওই বন্দি ছাত্রীদের নিয়ে কলেজ থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন। তখন কলেজের গেটে অধ‍্যাপকের সঙ্গে টিএমসিপি-র সদস্যদের বচসা শুরু হয়। বচসার মধ্যেই টিএমসিপি-র কয়েকজন সদস্য অধ‍্যাপক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কেও মারধর করে বলে অভিযোগ। ছাত্রদের কিল, ঘুষিতে অধ্যাপকের কপাল ফেটে গিয়েছে, মুখেও আঘাত লেগেছে। পরে উত্তরপাড়া থানায় গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে কলেজ ছাত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন সুব্রতবাবু।

প্রসঙ্গত, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে মারধরের ঘটনার বিরুদ্ধে যখন রাজ‍্যের শাসক দল সরব, গৌতম ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ‍্যায় সহ একাধিক বিশিষ্টজনেরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিচ্ছেন, তখনই ‘তৃণমূল জিন্দাবাদ’, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ না বলায় কলেজ ছাত্রীদের মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠল টিএমসিপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে‌। ছাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে অধ্যাপকও নিগ্রহের শিকার হলেন। কোন্নগর নবগ্ৰাম হীরালাল পাল কলেজের টিএমসিপি-র সদস্যদের এই আচরণ কেবল কলেজ চত্বর নয়, রাজ্যের শাসক দলকেও কলঙ্কিত করল বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here