ডেস্ক: এবার কেবল অপারেটরদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শুক্রবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কেবল অপারেটর ও এমএসও-দের অনুষ্ঠানে ‘কল্পতরু’ রূপে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বাংলার হাজার হাজার মানুষ কেবল অপারেটরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন৷ তাঁদের সুরক্ষার দিকটা নিশ্চিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হল ছোট ছোট কেবল অপারেটরদের৷ ফলে অনুষ্ঠান শেষে চওড়া হাসি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন কেবল অপারটেররা৷

বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন ছোট কেবল অপারেটরা৷ তাঁদের বক্তব্য, গ্রামাঞ্চলে এখনও মানুষ ১৫০ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারেন না কেবল টিভি দেখার জন্য৷ ফলে ব্রডকাস্টারদের পেমেন্ট ও রক্ষণাবেক্ষণের পর ওইসব অঞ্চলের কেবল অপারেটরদের হাতে কিছু থাকে না৷ কেবল অপারেটররা এদিন বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ গ্রামাঞ্চলে প্যাকেজের দাম কমানোর অনুরোধ করেন অপারেটররা৷ সমস্যাটি বোঝার পর মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে হাজির ব্রডকাস্টারদের অনুরোধ করেন প্যাকেজের দাম কমানোর৷ তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকে নিয়ে একটা কমিটি গড়া হল৷ যেখানে সরকারের প্রতিনিধিও থাকবে৷ সবাই মিলে বসে একটা সমাধান সূত্র বের করতে হবে৷’ তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখা দরকার, গ্রাসরুটে কেবল চালান করেন অপারটেররাই৷ তাদের দিকে নজর দিতে হবে৷ অপারেটরদের আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে৷ যাতে তারা স্বচ্ছ্বলভাবে জীবন যাপন করতে পারে৷’ মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্যের পর বেজায় খুশি কেবল অপারেটররা৷

তবে শুধু প্যাকেজ কমানোই নয়, কেবল অপারেটরদের সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে এদিন বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি শ্রম দফতর ও ক্ষুদ্রশিল্প দফতরের সঙ্গে কেবল অপারেটরদের সমন্বয় সাধনের কথা বলেন৷ কারণ, রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত৷ স্বাস্থ্যসাথী ও রূপশ্রী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হল কেবল অপারেটরদের৷ সন্তান স্নাতক হলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাবে তারা৷ রূপশ্রী ও স্বাস্থ্যসাথী বাদ দিয়েও আরও কয়েকটি পৃথক প্রকল্প৷ শ্রম দফতরের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়৷ যেখানে অপারেটররা ২৫ টাকা মাসে দিলে রাজ্য সরকার দেবে ৩০ টাকা৷ এই প্রকল্পের সুবিধাও ব্যখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷

এই প্রকল্প ব্যখ্যা করেত গিয়ে তিনি বলেন, ‘৬০ বছর পর ২ লক্ষ টাকা নগদ ও মাসে মাসে ১৫০০টাকা পেনশন পাবে৷ বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সাহায্য পাওয়া যেবে এই প্রকল্পে৷ শুধু অপারটেরা নয়, তাদের পরিবারের লোকেরাও এই সাহায্য পাবে৷ কাজ করতে গিয়ে কোনও অপারেটরের দুর্ঘটনার মৃত্যু হলে ২ লক্ষ টাকা দেবে সরকার৷ স্বাভাবিক মৃত্যু হলে ৫০ হাজার টাকা পাবে অপারেটররাও৷’

কেবল অপারেটরদের সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী কমিটি গড়ে দেন৷ যেখানে চেয়ারম্যান করা হয়েছে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে৷ রাখা হয়েছে শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে৷ কমিটিতে রয়েছেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও৷ এছাড়া কেবল অপারটের ও এমএসও-দের প্রতিনিধিকেও রাখা হয়েছে এই কমিটিতে৷ তাদেরকে অপারেটরদের ডেটা বেস বানানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেইসঙ্গে অপারটেরদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, দাঙ্গার খবর যেন না দেখান তাঁরা৷ ফেক নিউজে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলেই মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here