news bengali

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: খাদ্য ও স্বাস্থ্য সচিবের পর এবার কলকাতার পুর কমিশনার। করোনা নিয়ে প্রশাসনের যাবতীয় ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে সরে যেতে হয়েছিল স্বাস্থ্য সচিব বিবেক কুমারকে। রেশন বণ্টনে অনিয়মের জেরে সরতে হয়েছিল খাদ্য সচিবকে। এবার ঘূর্ণিঝড় আমপান উত্তর পরিস্থিতিতে বেহাল নাগরিক জীবনকে দ্রুত ছন্দে না ফেরাতে পারার দায় নিয়ে সরতে হল কলকাতা পুর কমিশনারকে। বুধবার আমপান ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব চালানোর ৪৮ ঘণ্টা পরও জেলা তো দূরস্থান খাস কলকাতা শহরেও অধিকাংশ জায়গায় পানীয় জলের জন্য হাহাকার। নেই বিদ্যুৎ, নেই মোবাইল বা ফোনের যোগাযোগও। ইন্টারনেটের অবস্থাও তথৈবচ। আর তার জেরেই মানুষের ক্ষোভ নেমে এসেছে রাজপথে।

বিক্ষোভ সামলাতে মাঠে নামতে হয় রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। এরপরেই কলকাতা পুরনিগমের কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় খলিল আহমেদকে। তার জায়গায় এলেন বিনোদ কুমার। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে আমপান পরবর্তী সময়ে খলিলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তার জেরেই এই অপসারণের সিদ্ধান্ত। তবে সরকারের এই প্রবণতায় ক্ষুব্ধ প্রশাসনিক মহল। তাদের মতে, বারবার প্রশাসনিক ব্যর্থতার সব দায় আমলাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ফলে জনমানসে যেমন ভুল বার্তা যাচ্ছে, তেমনি ক্ষোভ ছড়াচ্ছে প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যেও। রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হলে ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ করোনা লেখা যাবে না এই সিদ্ধান্ত কার্যত প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের ছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসায় এক মেডিকেল কলেজের সুপারকে সরে যেতে হল। স্বাস্থ্য সচিব বিবেক কুমারও করোনা মৃত্যুর হার নিয়ে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে ফেলে বলি হলেন। বারবার ব্যর্থতা ঢাকতে আধিকারিকদের বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।’ এক্ষেত্রেও আমপান ঘূর্ণিঝড় যেখানে নজিরবিহীন ধংসলীলা চালিয়েছে সেখানে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আর সেই চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও নিতে হবে। ব্যর্থতা যদি থেকেও থাকে তার দায় উভয়কেই নিতে হবে বলে দাবি তাঁদের।

কলকাতায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া নিয়ে শুক্রবার তরজা বাঁধে কলকাতা পুরনিগম ও সিইএসসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে। সিইএসসির দাবি, শহরে ভাঙা গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ পুরনিগমের। রাস্তা সাফ হলেই তারা বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল করতে নেমে পড়বেন। যদিও পুরনিগমের বক্তব্য, বিদ্যুতের তারে গাছ পড়ে গেলে তা কেটে বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখার কথা বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার। দুই তরফের এই চাপান উতোর নিয়েই শুক্রবার নাজেহাল দশা হয় কলকাতাবাসীর। এই সময়ে খলিল রাস্তায় নেমে না আমজনতার বিক্ষোভ সামলেছেন না সিইএসসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার কোনও সমাধানের চেষ্টা করেছেন। সেই কারনেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

এরই মধ্যে কলকাতা জুড়ে কার্যত হাহাকার পড়ে গিয়েছে মোমবাতি আর জেনারেটরের। আর হাহাকার পড়েছে পানীয় জলের। মূলত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক না হয়ে ওঠার জন্যই এই দশা বলে মনে করা হচ্ছে। শহরের সব থেকে খারাপ অবস্থা বহুতলের বাসিন্দাদের। বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁরা যেমন লিফট ব্যবহার করতে পারছেন না, বহু জায়গায় তেমনি পাচ্ছেন না পানীয় জলও। শুক্রবার দিন তাঁদের কার্যত দিশেহারা অবস্থা হয়। আবার রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের পাশাপাশি সিইএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে লকডাউনের জেরে অনেক কর্মী এখন বাড়িতেই বসে আছেন। খুব কম কর্মী নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। যেখানে ২০ জন কর্মী থাকার কথা সেখানে মাত্র ৪ জন কর্মী দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে যে কাজ করতে ১ ঘন্টা লাগার কথা তা করতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এর ফলে এই অল্প সময়ের মধ্যে শহরের বড় অংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করে ওঠা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here