মহানগর ডেস্কঃ বিশ্বব্যাপী লকডাউনেও মিলনা সুফল। যথারীতি ঊর্ধ্বমুখী কার্বন-ডাই-অক্সাইডের গ্রাফ। গাড়ি-ঘোড়া কলকারখানা ইত্যাদি বন্ধ থাকলেও বাতাসে কমেনি কার্বন কণা।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ কমেছিল ৫.৮ শতাংশ। লকডাউনের ফলে বিশ্বব্যাপী বন্ধ ছিল কারখানা, গাড়ি। এই পরিসংখ্যান সেই সময়ের। কিন্তু নির্গমনের হার হ্রাস পেলেও বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমেনি এতোটুকুও। বরং বেড়েছে। ২০১৯-এ কার্বন নির্গমনে রাশ টানা সম্ভব হলেও ২০২০ সালে আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে ছিলেন বিশ্ববাসী। গত বছর ৩১ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে মিশেছে বলে জানা দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক পত্রিকার এক প্রতিবেদন।

লকডাউনের সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল একাধিক ছবি একাধিক ভিডিও। প্রকৃতি প্রেমিক’এর একাংশ ভেবেছিলেন, এবার বুঝি কিছুটা সুস্থ হবে বায়ুমন্ডল। কিন্তু সাধারন মানুষের এই ধারণা যে একেবারেই অমূলক তার প্রমাণ এই সমস্ত পরিসংখ্যান। বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য আগেই বলেছিলেন, সপ্তাহখানেক এর লকডাউন খুব একটা প্রভাব ফেলবে না পরিবেশের ওপর। অর্থাৎ প্রকৃতিকে সুস্থ করতে দিতে হবে আরও অনেক বেশি সময়।

পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে বৈঠকে বসেছিলেন ৭ দেশের প্রতিনিধি দল। আলোচনায় বসার আগে বিশেষজ্ঞরা জানতেন না, মানব সভ্যতা ইতিমধ্যে গড়েছে নয়া নজির। বাতাসে বেড়েছে কার্বনের উপস্থিতি। ২০২০ সালের মে মাসে প্রতি মিলিয়ন কণায় বাতাসে কার্বনের পরিমাণ ছিল ৪১৭। ২০২১ সালে যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪১৯।

১৯৬০-এর শুরুর দিকে বাতাসে কার্বনের এই পরিমাণ ছিল ৩০০’র কিছু বেশি। সেখান থেকে ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী কার্বনের গ্রাফ। মানব সভ্যতা যত উন্নত হয়েছে ততই বেড়েছে কার্বন। সেই সঙ্গে রয়েছে আগ্নেয়গিরি উদগিরণ, দাবানলের মতো প্রাকৃতিক ঘটনা। ভূ-রসায়ন বিজ্ঞানী র‍্যাল্ফ কেলিং বলেছেন, ‘আমরা যতক্ষণ না কার্বনের ব্যবহার কমাতে পারবো, ততক্ষণ বাতাসে কার্বন কণার হার বাড়তেই থাকবে।’ কয়লার মতো জৈব জ্বালানীর ব্যবহার বন্ধ না করা পর্যন্ত বায়ুমন্ডলে ক্রমেই মিশবে কার্বন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here