kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার: ভয় যা ছিল সেটাই হল। তবে রক্ষে এই যে পঞ্চায়েত ভোটের রেকর্ডকে ছোঁয়ার মতো এখনও পর্যন্ত কিছু হয়নি। যদিও নজরে এবারেও সেই দিনাহাটা। কোচবিহার জেলার এই মহকুমাতেই গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সব থেকে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। স্বাভাবিক ভাবেই এবারে নির্বাচন কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল দিনহাটায় নির্বিঘ্নে ভোট করা। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র এবার এমনিতেই সকলের নজর টেনে নিয়েছে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসে তাদের হয়েই প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়া নিশীথ প্রামাণিক। এই নিশীথই গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার দিনহাটা মহকুমা তো বটেই অনান্য আরও কিছু ব্লকে ভেলকি দেখিয়েছিলেন দলেরই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দমত প্রার্থী দাঁড় করাবার পাশাপাশি তাদের জিতিয়ে এনে। বৃহস্পতিবার দেখা যাচ্ছে সেই সব এলাকা থেকেই বিক্ষিপ্ত হাঙ্গামার খবর আসছে। হচ্ছে সংঘর্ষের ঘটনাও।

কোচবিহারে নির্বিঘ্নে ভোট করাতে এবারে বিজেপির তরফ থেকে বেশি নিরাপত্তা দাবি করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে। বলা হয়েছিল এই লোকসভার অধীনে থাকা সব বুথেই যেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। যদিও শেষ মুহুর্তে জেলা প্রশাসনের তরফে জানা যায় জেলার ৭টি বিধানসভা নিয়ে গঠিত কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের মোট ২০১০টি বুথের মধ্যে ১১৪৪টি বুথে মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাকি ৮৬৬টি বুথে থাকবে রাজ্য পুলিশের বাহিনী। এদের হাতেই থাকবে ভোট দিতে আসা ১৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬৬০জন ভোটের নিরাপত্তা। কিন্তু এই নিরাপত্তা যে পর্যাপ্ত নয় সেটা বেশ বোঝা গেল এদিন ভোট শুরু হতেই।

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করে বুথ দখল ও ছাপ্পা দেওয়ার অভিযোগ। মূলত বিজেপির পক্ষ থেকেই ওই সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। জেলার কোচবিহার-১ ব্লকের চান্দামারি, দিনহাটার মাতালহাট, নয়ারহাট এলাকায় কিছু বুথে ছাপ্পা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া শিবির। কোচবিহার-২ ব্লকের কামিনিরঘাট এলাকায়, দিনহাটার ওকরাবাড়ি এলাকায় এবং নাটাবাড়ি বিধানসভার বেশ কিছু এলাকায় বিজেপির পোলিং এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কোচবিহারের জেলা শাসক কৌশিক সাহা এদিন কোচবিহার শহরের একটি বুথে যান পরিদর্শন করতে। তিনি সেখানে দাবি করেন, জেলায় ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে।

তবে বিজেপির পাশাপাশিও শাসক দলের তরফেও বেশ কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে। জেলার মাথাভাঙ্গায় দলেরই পঞ্চায়েত প্রধানের ওপর হামলা হয়েছে বলে ওই অভিযোগ তোলে শাসকদল। ওই হামলার জেরে আহত হয়েছে ৩ জন। অভিযোগ তীর বিজেপির দিকেই। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। এদিন নাটাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তার ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বচসায় জড়ান। পাশাপাশি দিনহাটায় তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয় যে, বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক বুথে ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তার জেরে বেশ কিছু তৃণমূল সমর্থক ও কর্মঈরা নিশীথকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান। আবার দিনহাটারই রাসমন্ডা স্কুলে ভোটের লাইন দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলে বিজেপি। তাদের অভিযোগ শাসক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বিজেপির অভিযোগ, ওই বুথে সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয় রাজ্য পুলিশের তত্ত্বাবধানে। বুথে তখন ছিলেন প্রায় শ’দেড়েক ভোটার। এই সময় হঠাৎই লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় একদল দুষ্কৃতী। তারা লাইনে থাকা ভোটারদের মারধর করে বুথ থেকে তাড়িয়ে দেয়। বিজেপির অভিযোগ, লাইনে থাকা ভোটাররারা তাদের সমর্থক। এরপরেই বিজেপির কর্মীরাও পাল্টা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে যায় ওই বুথে। দু পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক ঝামেলা। এই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেই সময় বুথে থাকা রাজ্য পুলিশের কর্মীরা বুথের ভেতরে ঢুকে গিয়ে দরজায় তালা দিয়ে নিজেরা আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করেন। তবে এই ঘটনার পরেও কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা মেলেনি বলে স্থানীয় মানুষদের দাবি। ওই ঘটনার জেরে ওই বুথে ভোটগ্রহণ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও পরে তা আবার চালু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here