মহানগর ওয়েবডেস্ক: মানুষের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। সবচেয়ে বিশ্বাসী বন্ধু। সারমেয়দের প্রভুভক্তি নিয়ে কখনো সন্দেহ করতে নেই। সন্দেহ করলে বারবার ভুল প্রমাণিত হতে হবে নিজেকেই। তবে শুধু প্রভুভক্তি বললে ভুল হবে। দুঃসময় আসলে সব মানুষই যে তাদের কাছে প্রভু সমান তার প্রমাণ মেলে। আর প্রভুদের সাহায্য করতে সারমেয়রা যে বহুদূর যেতে পারে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিচ্ছে বছর আটের ‘ইরস’। করোনাভাইরাস ত্রস্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরছে সে।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে গোটা বিশ্বের ঘুম উড়েছে। ভাইরাস থানা থেকে বাদ যায়নি কলম্বিয়াও। সেখানেও লকডাউন এবং সোশ্যাল ডিসটেন্সসিং-এর দৌলতে ঘর বন্দী মানুষ। কিন্তু তাদের কাছে বড় পাওনা ‘ইরস’। ভাইরাস বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ভগবানের দূত হয়ে কাজ করছে সে! শাকসবজি, ফল এবং প্রয়োজনীয় খাবার একাই পৌঁছে দিচ্ছে দরজায় দরজায়। সারমেয়র এই কাজ সেখানকার মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেও সাহায্য করছে।

Doggy deliveries help Colombians shop during pandemic | The ...

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মাঝে স্টার হয়ে ওঠাই ‘ইরস’ প্রথম থেকেই জনপ্রিয় ছিল না। কিন্তু এই আতঙ্কের সময় নিজের মুখে একটি ছোট্ট বাস্কেটে করে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করার জন্য রাতারাতি নায়ক হয়ে উঠেছে সে। ‘ইরস’-এর মালিক জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ তারপর এই আচরণকে দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ এর জন্য ভাইরাস আতংক কিছুটা হলেও কমেছে। কারণ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য বারবার সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে বেরোতে হচ্ছে না, সারমেয় দ্বারা খাদ্য সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে।

Doggy deliveries help Colombians shop during pandemic | Offbeat ...

তবে প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কী করে এই কাজ করছে ছোট্ট সারমেয়? পোষ্যের মালিক জানাচ্ছেন, স্বাভাবিক কারণেই কোন বাড়ির ঠিকানা সে মনে রাখতে পারে না। কিন্তু যে যে বাড়িতে সে যায় সেই বাড়ির লোককে সে মনে রাখে। নির্দিষ্ট বাড়িতে পৌঁছে সে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ডেলিভারি করার পরে বাড়ির লোকজন তাকে ভালো মন্দ খেতে দেয় এবং দরকারি কোন জিনিস চাওয়ার থাকলে তার মুখের বাস্কেটে কাগজে লিখে দিয়ে দেয়। বিগত কিছুদিন ধরে একই কাজ করার ফলে এখন পুরোটাই অভ্যেস করে নিয়েছে ‘ইরস’। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here