bengali news

 

মহানগর ডেস্ক: শীতলকুচির ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ বলে মন্তব্য করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সাংসদ অধীর চৌধুরী৷ আজ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনায় কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে৷ একইসঙ্গে শীতলকুচির বেদনাদায়ক ঘটনার জন্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপিকেও সমান্তরালভাবে দায়ী করেন অধীর৷ দুই দলকেই চরম ক্ষমতালোভী এবং দানব বলে উল্লেখ করেন৷ তাঁর কথায়, তৃণমূল এবং বিজেপি নামক দুটো দানবীয় দলের উসকানি এবং বল্গাহীন কুরুচিকর ভাষণের পরিণতিতেই প্রতিদিন রক্তাক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ৷ তবে ভোট চলাকালে যাবতীয় হিংসা-অশান্তির জন্য কমিশনও তার দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন অধীর৷

বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে ভোট প্রচারে গিয়ে শীতলকুচিকাণ্ড নিয়ে সরব হন তিনি৷ বলেন, মাত্র ক’দিন আগেই নির্বাচন কমিশনের তরফে এক নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গুলি চালানোয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়৷ যা নিয়ে আমরা জোরালো আপত্তি জানালেও কমিশন তাতে কর্ণপাত করেনি৷ অধীর এও বলেন, এ রাজ্যের পরিবেশ-পরিস্থিতি এখনও বুঝে উঠতে পারেনি নির্বাচন কমিশনের লোকজনেরা৷ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে যে বাহিনী পাঠানো হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়৷ তাই প্রথমদফা থেকেই লাগাতার অশান্তি লেগেই রয়েছে৷ গতকাল শনিবার সব অশান্তিকে ছাপিয়ে গিয়েছে শীতলকুচির রোমহর্ষক ঘটনা৷ এদিন চতুর্থদফা ভোট চলাকালে সকাল ১০টার একটু পরে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা মহকুমার শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের জোরপাটকি গ্রামের ১২৬ নম্বর বুথে সিআইএসএফ-এর গুলিতে বেঘোরে প্রাণ হারান ৪জন ভোটদাতা৷

এই মর্মস্পর্শী ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় নেয়৷ তৃণমূল বনাম বিজেপির তরজা, কোন্দল এবং চাপান-উতোর তুঙ্গে ওঠে৷ বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আজ রবিবার শীতলকুচিকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কালো ব্যাজ পরে প্রচার এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, অবস্থান করছে তৃণমূলীরা৷ এই প্রেক্ষিতে অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলের নেতা-নেত্রীর মধ্যে প্রতিদিন দুবেলা বিশ্রীভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে৷ রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে, আর উলুখাগড়ার প্রাণ যাচ্ছে৷ এর জন্য তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলই সমানভাবে দোষী৷ আর শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ তাই চার দফা ভোটে ১৪ জন নিহত হল৷ অধীরের কথায়, এবার তৃণমূল-বিজেপি দুজনেই খরচের খাতায় চলে যাবে৷ ইতিহাসের পাতায় চলে যাবে তারা৷ এবার সরকার গড়বে সংযুক্ত মোর্চা৷

অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অভিজিত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, শীতলকুচির ঘটনার জেরে কোচবিহার জেলায় ৭২ ঘণ্টা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মমতা ব্যানার্জিকে আটকাতে বেপরোয়া চেষ্টা করেছে কমিশন৷ সাম্প্রতিক অতীতে এর কোনও নজির নেই৷ কমিশন এটা ঠিক করেনি৷ এই ঘটনা সমগ্র দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে৷ প্রাক্তন ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিত আরও বলেছেন, কোচবিহারে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঢুকতে না দিয়ে কমিশন বিজেপির সঙ্গে এক সারিতে দাঁড়িয়েছে৷ রবিবার ট্যুইট করে তিনি বলেন, শীতলকুচিতে আসল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, প্রকৃত সত্য লুকোতে চাইছে ওরা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here