kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত‍্যু হল বাড়িতেই। সৎকারের জন‍্য সাহায‍্য চেয়েও না পাওয়ায় চার ঘণ্টার ওপর বাড়িতেই পড়ে রইল মৃতদেহ। প্রশাসন থেকে পাড়া-প্রতিবেশী এগিয়ে আসেনি কেউই। এক ভিডিয়ো বার্তায় এই ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার কথা জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন। হুগলির উত্তরপাড়ার এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল‍্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপাড়া ভদ্রকালীর এক ষাটোর্ধ্ব মহিলা গত কয়েকদিন ধরে পেটের অসুখে ভুগছিলেন। পরশু দিন তাকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে এক্স-রে করতে বলা হয়। এক্স-রে রির্পোট আসার পর তাদেরকে বলা হয় ওই মহিলা করোনা পজিটিভ সন্দেহভাজন হতে পারেন। তাই তাদেরকে কলকাতার কোনও জায়গায় গিয়ে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ির লোকের দাবি, গতকাল তারা কলকাতার বহু জয়গায় ঘুরলেও ভর্তি কোথাও ভর্তি করাতে পারেননি। সমস্ত জায়গা থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তারপর তারা নিজেরাই একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে বাড়ি ফিরে আসেন। আজ সকালে তারা জানতে পারেন ওই মহিলা করোনা আক্রান্ত। তারপর দুপুরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তার। এরপর বাড়িতেই মৃত‍্যু হয়। এই ঘটনার পর পরিবারের লোকজন পুরো বিষয়টা জানিয়ে স্থানীয় পুরসভা, থানা-সহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন দেহ সৎকারের জন‍্য। পাড়া- প্রতিবেশীদের কাছেও  সাহায‍্যের আর্তি জনানো হয়। কারণ,  করোনা আক্রান্ত রোগীর সৎকার সরকারি কিছু নিয়ম কানুন মেনে করতে হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পর ও প্রশাসন থেকে কোনও ব‍্যবস্থা বা সাহায‍্য না মেলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাড়ির লোকজন।

সাহায‍্যের জন‍্য একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে কোনও সুরাহা না হওয়ায় ভিডিয়ো বার্তার মাধ‍্যমে জানান বাড়ির লোকজন। মহিলার জামাই পিপিই কিট পরে মৃতদেহের পাশ থেকে এক ভিডিয়ো বার্তায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ‍্য ব‍্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন। সেই সঙ্গে কোনও পাড়া-প্রতিবেশী সাহায‍্যে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে উত্তরপাড়া কোত‍রং পুরসভার প্রশাসক দিলীপ যাদব অবশ‍্য জানিয়েছেন, পরিবারে লোক বলার পর ব‍্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেহেতু করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত‍্যু হয়েছে, তাই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে ব‍্যবস্থা নিতে হয়। সেই কারণে একটু দেরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here