ডেস্ক: রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে কত রকমের খেলাই না দেখা যায়। গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ হয়ে উঠেছে কর্ণাটক। গতকাল ফল প্রকাশের পর দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ১১২তে পৌঁছাতে পারেনি বিজেপি। তখনই কংগ্রেস জেডিএসের সঙ্গে জোট করার পরামর্শ দেয় এবং দেবগৌড়ার ছেলে কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অফারও দেওয়া হয়। আর কংগ্রেসের এই চালের পরই ঘোড়া কেনা-বেচার খেলা শুরু করে হয়ে গিয়েছে এই দক্ষিনী রাজ্যে।

বুধবারই কংগ্রেসের বিধায়ক লিঙ্গানাগৌড়া পাটিল অভি‌যোগ তুলেছেন, সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে ক্যাবিনেটে মন্ত্রীত্ব পাইয়ে দেবে বলেছে বিজেপি। এই অফার তিনি ফিরিয়ে দিলেও একই ধরণের অফার জেডিএসের কয়েকজন বিধায়কের কাছেও গিয়েছে বলে উঠে এসেছে সূত্রের খবরে। আর তারপরই নিজেদের বিধায়কদের আগলে রাখতে বেঙ্গালুরুতে একটি রিসর্ট ভাড়া করেছে কংগ্রেস। রাহুলের দলের পক্ষ থেকে যদিও এই দাবি নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে চাঞ্চল্যকর আরেকটি তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার রাত থেকেই নাকি কংগ্রেসের বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না দল। ফলস্বরূপ তাদের খুঁজতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমে পড়েছে হাইকমান্ড।

কংগ্রেসের ৭৮ জন বিধায়ক নিয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, মাত্র ৫০ জন বিধায়ক এখনও পর্যন্ত সেই বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির তরফ থেকে সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছে গিয়েছেন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ইয়েদুরাপ্পা। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ হুমকি দিয়ে রেখেছেন তাদের সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়া হলে খুনোখুনি হয়ে যাবে। সবমিলিয়ে কর্ণাটকের ভোটপর্ব শেষ হয়ে গেলেও রাজনৈতিক তরজা উঠেছে তুঙ্গে। এখনও পর্যন্ত ঘোড়া কেনা-বেচার খেলায় অবশ্য অ্যাডভান্টেজে রয়েছে বিজেপি। ইয়েদুরাপ্পা আবার দাবি করেছেন, আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্য নেবেন রাজ্যপালই।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here