গান্ধী রাজের অবসান কি হবে কংগ্রেসে?

0
9
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেস মানেই গান্ধী পরিবার৷ এবার কী গান্ধী পরিবারের নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে চাইছে শতাব্দী প্রাচীন এই দল? উঠেছ প্রশ্ন৷ বাড়ছে জল্পনা৷ লোকসভা ভোটে ফের ভরাডুবির পরে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী৷ তিনি হারের দায় মেনে আর কিছুতেই কংগ্রেসের শীর্ষে পদে থাকতে চাইছেন না৷ চলতি বছরের ২৩ মে লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে ২৫ মে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল সভাপতি হিসাবে পদত্যাগ করেছিলেন৷ তবে তাঁর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেননি তাঁর সতীর্থরা৷ তবু তিনি সিদ্ধান্তে অনড়৷ তাই বাধ্য হয়ে কংগ্রেস তাঁর বিকল্প খোঁজা শুরু করেছে৷ প্রাথমিকভাবে বাংলার অধীর চৌধুরীর নাম কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে শোনা গিয়েছিল৷ দৌড়ে ছিলেন কেরলের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও৷ তবে সম্প্রতি এরা কেউ নন চারজনের নাম কংগ্রেসর শীর্ষ পদের জন্য ভাবা হচ্ছে বলে খবর৷ তবে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি রাহুলকে সভাপতি পদ থেকে অব্যহতি দিতে নারাজ৷ বিকল্প হিসাবে কা়র্য নির্বাহী সভাপতি করার পরিকল্পনা নিয়েছে এই শতাব্দী প্রাচীন দলের নিয়ামক সদস্যরা৷ তাঁদের সূত্র অনুসারে সভাপতি থাকবেন রাহুল গান্ধীই৷ তাঁর থেকে থেকে কিছুটা চাপ লাঘবের জন্য তৈরি হবে কার্য নির্বাহি সভাপতি পদ৷ এতে সাপও মরল, আবার লাঠিও ভাঙল না৷ রাহুল এমন প্রস্তাবে রাজি হবেন বলেই মনে করছে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা৷ উল্লেখ্য লোকসভায় মাত্র ৫৩টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস৷

এই কার্য নির্বাহী সভাপতি হিসাবে চার জনের নাম উঠে এসেছে৷ তাঁরা হলেন শচীন পাইলট, অশোক গেলহট,জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ এর মধ্যে চারজনই রাহুল ঘনীষ্ট৷ তাই তাঁরা রাহুলের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন বলে মনে করে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি৷ এর মধ্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই পদ গ্রহণ করতে রাজী হবেন কিনা তা নিয়ে দলেই যথেষ্ট সংশয় আছে৷ তাছাড়া রাহুলও চাইবেন না তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা এই পদে থাকুন৷ কংগ্রেসর বক্তব্য গান্ধী পরিবার মুক্ত হওয়া তাদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব৷ তাছাড়া প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া অনেকেই তাঁর নাতনি প্রিয়াঙ্কার মধ্যে খুঁজে পান৷ তবে লোকসভা ভোটে তিনি উত্তর প্রদেশের দায়িত্ব নিয়ে কংগ্রেসকে একচুলও সুবিধে দিতে পারেননি৷ উলটে তাঁর দাদার দীর্ঘ দিনের গড় বলে পরিচিত আমেঠিতে বিজেপি জিতে গিয়েছে৷ এছাড়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট ভদরার নামে প্রচুর আর্থিক দুর্নীতির মামলা রয়েছে৷ তাই তাঁর পথে কংগ্রেসর কার্য নির্বাহী সভানেত্রী হতে রাজী হবেন না৷ তাছাড়া রাজনীতিতেও তিনি যথেষ্ট অনভিজ্ঞ৷

১৮৮৫ সালে একেবারে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ভারতীয় রাজনৈতিকদলগুলির মধ্যে কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি গোষ্ঠী কোন্দল হয়৷ যার জন্য এখনো পর্যন্ত কংগ্রেসর ভাঙনো সবচেয়ে বেশি হয়েছে৷ এখানে সবাই রাজা৷ রাজস্থানে বিজেপিকে হারিয়ে ২০১৮র ডিসেম্বরে বিজেপিকে পরাস্ত করে কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে৷ এখন এমন পরিস্থিত যার ফলে রাজস্থানে পতন হতে পারে কংগ্রেস সরকার৷ আর এর জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী অসোকের সঙ্গে শচীনের ঝামেলা৷ রাজস্থানে লোকসভা ভোটে শোচনীয় ফল করেছে কংগ্রেস৷ হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে৷ আর এই হারের জন্য গেহলট তাঁর ডেপুটি শচীনকে সরাসরি দায়ী করেছেন৷ শচীন টিম রাহুলের নির্ভরযোগ্য সোনা হলেও তিনি কিন্তু গান্ধী পিরবাএরর সব নির্দেশ মাথা পেতে মেনে নেওয়ার পাত্র নন৷ তবে রাজস্থানে অশোক গেহলটকে মুখ্যমন্ত্রী করার সময় রাহুল শচীনকে বড় পদের জন্য তৈরি থাকতে বলে ছিলেন৷ কংগ্রেসর ওয়ার্কিং কমিটির অধিকাংশের ধারণা শচীন পাইলট কংগ্রেসের বিমান শক্ত হাতে ধরবেন৷ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া মধ্যপ্রদেশ এবার নিজে লোকসভা ভোটে হেরেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের সহ্গে তাঁর খুব একটা সদ্ভাব নেই৷ তিনিও রাহুল গান্ধীর খুব আস্থাভাজন৷ শচীনের মতো তিনি স্বাধীনচেতা নন৷ ফলে সহজেই গান্ধী পিরবারের যাবতীয় নির্দেশ মেন চলবেন৷ তবে নিজে লোকসভা বোটে হেরে যাওয়াটা তংআর বিপক্ষে যাচ্ছে৷অশোক গেহলট কংগ্রেস নিবেদিত প্রাণ৷ তবে এবার লোকসভা ভোটে রাজস্তানে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস একটা আসনও জিততে পারেনি৷ তাই একজন ব্যর্থ মানুষকে কংগ্রেসর কার্যনিবাহী সভাপতি করলে দলে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছে কংগ্রেসর একাংশ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here