ডেস্ক: ২০১৯ সালে বিরোধী জোটের বীজ গতকাল কর্ণাটকে কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণের মঞ্চেই বপন হয়ে গিয়েছে। সকল বিরোধীদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে একই মঞ্চে দেখা যায় রাহুল ও সোনিয়া গান্ধিকেও। কারণ দলমত নির্বিশেষে উদ্দেশ্য একটাই, বিজেপিকে মসনদ থেকে হটানো। কিন্তু এই চেষ্টায় কোনও খামতি না হলেও কংগ্রেসের জন্য নতুন সংকট ইতিমধ্যেই উদ্ভাবন হয়েছে। জাতীয় কংগ্রেসে দেখা দিয়েছে ঘোর আর্থিক সংকট। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, গত ৫ মাসে দেশের বিভিন্ন কংগ্রেস কার্যালয়ে এক টাকাও পাঠানো হয় নি। ফলে জাতীয় কংগ্রেস যে রীতিমতো আর্থিক সংকটে ধুঁকছে তাও সাফ হয়ে গিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কংগ্রেসের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলেন, দলের তরফ থেকে খরচ কমিয়ে সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। রাহুলের নেতৃত্বে থাকা কংগ্রেসের কাছে বিত্তশালী শিল্পপতিদের থেকে অনুদান আসছে ঠিকই, তবে সেই অনুদানের পরিমাণ একধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। নগদের সমস্যা এতটাই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে যে সাহায্যের জন্য চাঁদা তোলারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

আর্থিক সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ দিব্যা স্পন্দনা। তিনি বলেন, এ কথা সত্যি যে বিজেপির তুলনায় কংগ্রেসের কাছে অনেক কম টাকা আসছে। টাকা যোগার করতে কংগ্রেসকে অনলাইন ফাডিং-এর কথাও ভাবতে হচ্ছে।

কংগ্রেসে আর্থিক সংকটের বিষয়টি জলের মতো স্বচ্ছ হলেও এই নিয়ে টু শব্দ করতে নারাজ দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরযেওয়ালা। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও দক্ষিণ এশিয়ার মামলায় বিশেষজ্ঞ মিলন বৈষ্ণব বলেন, শিল্পপতিরা বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই কংগ্রেস ছেড়ে শাসক শিবিরের দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ঝুলিতে যে প্রচুর টাকা এসে গিয়েছে এ কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। ২০১৭ মার্চ আর্থিক বছর পর্যন্ত বিজেপি যত ফান্ড সংগ্রহ করেছে, কংগ্রেসের সংগ্রহ মাত্র তার এক চতুর্থাংশ। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকার প্রয়োজন যে ভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের এই আর্থিক সংকট কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার বিষয় হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here