ডেস্ক: গতকালের পর ফের আজ৷ ফের বিরোধী দলে বড়সড় ভাঙন৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন উত্তর চব্বিশ পরগণার বাগদার কংগ্রেস বিধায়ক দুলাল বর৷ তৃণমূল ভবনে এসে ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নেবেন তিনি৷ তাঁর তৃণমূলে যোগদান অবশ্য প্রত্যাশিতই ছিল৷ এদিন বাস্তবে তার রূপ পেল৷ গতকাল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের কংগ্রেস বিধায়ক গৌতম দাস তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন৷ এদিন দুলাল বর তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় পঞ্চায়েতের আগে আরও শক্তিবৃদ্ধি করল শাসক দল৷ অন্যদিকে, ক্রমশ সাইন বোর্ডের দিকে এগোচ্ছে কংগ্রেস৷

এর আগে গত অক্টোবরে দুলাল বরের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল৷ অক্টোবরেই বাগদার কংগ্রেস বিধায়ক দুলাল বরের তৃণমূলে যোগদান করার কথা ছিল। সেই সময়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বর্ধিত কোর কমিটির বৈঠকের জন্য তৃণমূলের টিকিটে জয়ী ২১১ জন বিধায়ককে উপস্থিত থাকার জন্য দলের তরফে SMS পাঠানো হয়েছিল। একইসঙ্গে SMS গিয়েছিল প্রকাশ্যে দলবদল করে আসা ৯ জন বিরোধী বাম ও কংগ্রেস বিধায়কদের কাছেও। কংগ্রেস বিধায়ক শম্পা দরিপা, তুষারকান্তি ভট্টাচার্য, শঙ্কর সিং, অরিন্দম ভট্টাচার্য, মানসরঞ্জন ভুঁইঞা, কানাইলাল আগরওয়াল, শেখ আসানুজ্জামান। এছাড়াও ছিলেন বাম বিধায়ক দীপালি বিশ্বাস ও বাম সমর্থিত নির্দল বিধায়ক নিহাররঞ্জন ঘোষ। ওই সময়ে নাকি কংগ্রেস বিধায়ক দুলাল বরের কাছেও নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল৷ দুলাল বরকে একাধিকবার ভবানীপুরে তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির পার্টি অফিসে দেখা গিয়েছিল দুলাল বর-সহ বাগদার একাধিক জেলা পরিষদ ও গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীকে। দুলাল সেইসময়ে তৃণমূলে যোগদানের আবেদনও করেছিলেন।

উল্লেখ্য, সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ এখনও বাগদা বিধানসভার অন্তর্গত প্রায় ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের শক্তি কম। এখানে ক্ষমতায় আছে কংগ্রেস। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা সেখানে ক্ষীণছিল। তবে দুলাল বরকে দলে নেওয়ায় সেখানে তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধি অনেকটাই বৃদ্ধি হল। কংগ্রেসের হাত থেকে আসন ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here