নিজস্ব প্রতিবেদক, পুরুলিয়া: পঞ্চায়েত ভোটে জেলায় ঝড় তুলেছিল গেরুয়া। তার রেশ এখনও কাটেনি। সেই ঝড়ের ঝটকায় জেলায় রীতিমত খুঁটি নড়ে গেছে খোদ শাসক দলেরও। গোটা রাজ্য জুড়েই কার্যত কি শাসক, কি বিরোধী, সকলের ভোটব্যাঙ্কেই থাবা বসিয়েছে বিজেপি। এরই মাঝে পড়ে কার্যত হাবুডুবু অবস্থা কাটা হাতের। একদিকে মালদা-মুর্শিদাবাদের মত জেলায় তাদের জমি ক্রমাগত দখল করে চলেছে তৃণমূল, অন্যদিকে রাজ্য জুড়ে দাপট বাড়ছে গেরুয়ার। এই রকম অবস্থায় পুরুলিয়ার মত জেলায় নিজেদের গড় ধরে রাখতে কার্যত হিমসিম খাচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাদের আশা ভরসার এক মাত্র জায়গা, রাজ্য বিধানসভায় দলের ডেপুটি লিডার তথা বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাতো। যিনি আবার নিজের জেলায়, নিজের গড়ে জমি ধরে রাখতে ভরসা রাখছেন লাগাতার দলীয় কর্মসূচীর ওপর। তাও এমন সব কর্মসূচী যাতে রাজ্যের শাসক দল কোনঠাসা হলেও তার লাভ গেরুয়া শিবির পাবে না, পেলে তা পাবে কংগ্রেসই। শনিবার সেই রকমই এক কর্মসূচীতে নেপালবাবুর সঙ্গে দেখা গেল জেলার প্রায় হাজার পাঁচেক কংগ্রেস কর্মীকে। তাদের কর্মসূচী ছিল বাঘমুন্ডি থানা ঘেরাও।

গত মে মাস থেকেই নেপাল মাহাতোর নেতৃত্বে শুরু হয়েছে পুরুলিয়া জেলায় একের পর এক থানা ঘেরাও কর্মসূচী। ঝালদা থানা, কোটশিলা থানা ঘেরাওয়ের পর শনিবার ঘেরাও করা হল বাগমুন্ডি থানা। প্রায় পাঁচ হাজার কংগ্রেস কর্মী সমর্থক এই থানা ঘেরাও কর্মসুচিতে অংশ গ্রহন করেন। থানা ঘেরাওয়ের মঞ্চ থেকেই এদিন পুলিশকে বয়কটের ডাক নেপাল মাহাতো। এদিনের থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হয়েছিল পুলিশি অত্যাচার, সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার মত বিষয়কে সামনে রেখে। বাঘমুন্ডি ব্লক কংগ্রেসের ডাকে থানা ঘেরাও কর্মসূচীতে এদিন দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও তাতে অংশগ্রহণ করেন হাজার হাজার সমর্থক। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ও জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো, উত্তম ব্যানার্জি, বলরাম মাহাতো, বিভূতি মাহাতো ও স্থানীয় নেতারা। থানা ঘেরাওয়ের এই কর্মসূচীতে তারা পুলিশকে ১৫ দফার একটি স্বারকলিপিও দেন।

এদিনের কর্মসূচীর মঞ্চ থেকে একের পর এক কংগ্রেসী নেতাকে দেখা গেল পুলিশকে সতর্ক করতে। নেপাল মাহাতো মঞ্চ থেকে কড়া বার্তা দিলেন বাঘমুন্ডির ওসি অনুপ ঘোষকে। তিনি বলেন,’আজ এত মানুষ এই কর্মসূচীতে সামিল হয়েছেন শুধু মাত্র আপনাদের অপশাসন ও সাধারণ মানুষের হয়রানি রুখতে। তাই আপনাদের উদ্দেশ্যে বলি এবার একটু সাবধান হউন। নাকা চেকিং এর নামে গাড়ি আর মোটরসাইকেল আটকে চালকদের হয়রানি করা বন্ধ করুন। কংগ্রেস কর্মীদের অযথা হয়রানি করা বন্ধ করুন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যামামলা দেওয়া বন্ধ করুন। আপনাদের দুর্নীতি দেখলে কংগ্রেস চুপ থাকবে না। প্রয়োজনে আপনাদের ঘেরাও করে রাখার পাশাপাশি পুলিশ বয়কট করতেও বাধ্য হব। থানাকে থানার মতো রাখুন, তৃণমূলের কার্যালয় করবেন না। মানুষ তাহলে যাবে কোথায়। বিজেপির তিন কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ওরা নাকি আত্মহত্যা করেছে, কিন্তু আপনাদের খাড়া করা এই তত্ত্ব কেউ বিশ্বাস করবে না। আপনারা ভুলে গেলেন ভারতী ঘোষের কথা। আপনার পরিবারকে কি আপনি বলতে পারবেন আপনি একজন সৎ পুলিশ অফিসার। তাই ভালোভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করুন না হলে আরো বৃহত্তর আন্দোলন হবে। শুনছি এই বিএলআরও মিউটেশনের নামে টাকা, পাট্টার নাম টাকা, বালি বোঝাই ট্রাক্টরে টাকা আদায়ে ব্যস্ত। তাই সাবধান পরবর্তী ডেপুটেশন আপনাকেই দেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here