ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি পদের দায়িত্ব রাহুল নিজের কাঁধে তুলে নিলেও দলের মাস্টারমাইন্ড এখনও তিনিই। সোনিয়া গান্ধি, তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একমাত্র পন্থা হতে পারে বিরোধীদের মহাজোট। এমনটাই মনে করছেন দলের প্রাক্তন সভানেত্রী। সেই কারণেই তৃণমূল সহ বাম ও সপার মতো দলগুলিকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনই যেন বিজেপি সরকারের ইতি হয়, এই মন্ত্র নিয়ে নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করতে চাইছে জাতীয় কংগ্রেস। তাই কংগ্রেস পার্লামেন্ট্রি পার্টির প্রধান সোনিয়া এবার বৃহত্তর জোটের পক্ষে জোর সওয়াল তুলেছেন। তাঁর মতে, দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আর্থিক উন্নতি ফিরিয়ে আনার স্বার্থে বিরোধী দলগুলিকে এক ছাদের তলায় আসতেই হবে। সেই কারণে রাহুলকে সামনে এগিয়ে তাঁর সঙ্গে পথ সকলকে পথ চলার পরামর্শ দিয়েছেন সোনিয়া।

সম্প্রতি কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সোনিয়া বলেন, ”গুজরাত বিধানসভা ও রাজস্থান উপনির্বাচনের ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। সেই পরিবর্তনকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে, কিন্তু তা বিরোধী দলগুলির সহায়তা ছাড়া অসম্ভব বুঝে গিয়েছেন সোনিয়া। তাঁর বৈঠকে সাফ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে যেভাবেই হোক এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতেই হবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও সোনিয়ার সুরেই কথা বলছেন। ২০১৯-এ সকল বিরোধীরা একজোট না হলে পুরনায় এনডিএ সরকারই ক্ষমতায় আসবে, এমনটাই মনে করছেন বেশিরভাগ সমীক্ষাকারীরা। একই সঙ্গে গুজরাত এবং রাজস্থানের ফল কংগ্রেসে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। গুজরাতে ক্ষমতা না পেলেও ১৮২-র মধ্যে ৮০টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস জোট, যা গতবারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বিজেপির আরেক গড় রাজস্থানে বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হাতে গেরুয়া শিবিরের পর্যুদস্ত হওয়ার ফলে কমে যাওয়া আত্মবিশ্বাসও পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে রাহুলের দল। ফলে বিজেপিকে হারাতে মহাজোটই একমাত্র অস্ত্র তা সকলের কাছেই সাফ। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনকে লক্ষ্যে নিয়ে সেই পথেই হাঁটা শুরু করেছে জাতীয় কংগ্রেস।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here